ভোরে চলছে গণপরিবহন

6

মনিরুল ইসলাম মুন্না

দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন চললেও নগরীর বাকলিয়া এলাকায় পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও সেনাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে দূরযাত্রার বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস চলাচল করছে প্রতিনিয়ত। অথচ নগরীর প্রবেশ পথে পুলিশের চেকপোস্ট থাকলেও ভোর বেলায় কোন গাড়িকে থামাতে বা চেক করতে দেখা যায়নি।
এদিকে নগরে গণপরিবহনের প্রবেশ ও বাহির ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয় সকাল ৭টা থেকে। যার মধ্যে ট্রাফিক পুলিশের ডিউটি শুরু হয় সকাল ৭টা থেকে, সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে এবং জেলা প্রশাসনের অভিযান শুরু হয় সকাল ৯টা থেকে। তবে তার আগে চেকপোস্টগুলোতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নগরীর বাকলিয়া শহীদ বশরুজ্জামান চৌধুরী চত্বরে অবস্থানকালে বাস-মিনিবাসে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে। অথচ নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বলছে, বিষয়টি অবগত নয় বলে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে, ভোর পৌণে ৫টা থেকে বশরুজ্জামান চৌধুরী চত্বরে চারটি বাস (ফি আমানিল্লাহ, শাহ আমানত ও দুইটি হানিফ) এবং তিনটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে কক্সবাজারগামী যাত্রী ডাকছেন। এর মধ্যে চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চকরিয়ার যাত্রীদেরও তোলা হচ্ছে। তবে কোন গাড়িতে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না, সেই সাথে ভাড়া দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ। তারপরও যাত্রীরা উঠে পড়ছেন। এভাবে কয়েকটি গাড়ি যাত্রী নিয়ে চলে যায়।
ভোর ৬ টায় ট্রাফিক পুলিশের দুই কনস্টেবল দায়িত্বে আসলে গাড়িগুলোকে এক সারিতে দাঁড়াতে ইশারা দেন এবং যাত্রী নিয়ে চলে যেতে বলেন। পরবর্তীতে আরও দুইটি বাস (হানিফ ও শাহ আমানত) এসে দাঁড়ায়। অথচ যেখানে গাড়ি চলাচলের নিয়ম নেই, সেখানে যাত্রী উঠানোর নির্দেশনা কেমনে দেন প্রশ্ন সচেতন মহলের।
হাঁটতে বের হওয়া বয়োবৃদ্ধ হাজী মো. ইউসুফ বলেন, ‘পুলিশ প্রশ্রয় না দিলে গাড়িগুলো দাঁড়াতেও পারবে না, আর যাত্রীও তুলতে পারবে না। এগুলো পুলিশকে ম্যানেজ করেই করছে।’
বিষয়টি স্বীকার করে বাস কন্ট্রাক্টর মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘পথিমধ্যে বিভিন্ন ট্রাফিক ও চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশকে ম্যানেজ করতে হয় বিধায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছি। আর তা জেনেও মানুষ গাড়িতে উঠছে।’
যাত্রীরাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করাকে ডাকাতি বলে মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, লকডাউনের সুযোগে চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যেটা মোটেও উচিত নয়।
বাচ্চাকে ডাক্তার দেখাতে আসা মহিলা মোরশেদা বেগম জানান, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোর বেলা বেছে নিয়েছি। দিনের বেলায় দূরের গাড়ি কম চলে আর ভাড়াও তখন বেড়ে যায়। এ সময়টাতে কিছুটা কম দিয়ে এক গাড়িতে করে লোহাগাড়া যেতে পারবো। কত টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাড়া আড়াইশো টাকা বলেছে। আমি দুইশো টাকা দিবো বলে দর করে উঠেছি।চকরিয়ার যাত্রী আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, চালকরা যদি অর্ধেক যাত্রী নিতো, তবে সেটা মানা যেতো। কিন্তু এখন তারা সামনে ও পেছনে ৫ জন যাত্রীও তুলছে, আবার দ্বিগুণ ভাড়াও আদায় করছে। তাহলে এটা এক প্রকারের ডাকাতি বলা যায়।
মহাসড়কের বিষয়ে পটিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ও দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রব জানান, আমাদের ২৪ ঘণ্টা চেকপোস্টে তিন শিফটে ডিউটি চলমান রয়েছে। সড়কে কোন গণপরিবহন দেখলে আমরা তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া অবৈধ পরিবহনের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত মামলা ও জব্দ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, ভোরে নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে গাড়ি চলাচলের বিষয়টি আমরা জানতাম না। ওখানে কনস্টেবলদের ডিউটি ৭টা থেকে শুরু হয়। আগামীকাল (রবিবার) থেকে ৫টা থেকে ডিউটি করে দেয়া হবে। আর নতুন ব্রিজ এলাকায় কোন গাড়ি দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।
সেনাবাহিনীর চেকপোস্টের বিষয় নিয়ে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের মেজর নাজমা ইসলাম জানান, আমাদের ডিউটি শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। তখন উপযুক্ত কারণ ছাড়া পরিবহন চলাচল করার সুযোগ নেই। আমরা কোন পরিবহন বা ব্যক্তি শহরে ঢুকতে বা বের হতে কারণ জিজ্ঞেস করি, তারপর অনুমতি দিই।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক দৈনিক পূর্বদেশকে বলেন, গণপরিবহন চলাচলে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। আমরা টহল পুলিশ ও চেকপোস্টে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে এলার্ট থাকার জন্য বলে দিবো।