ভোটে জনআস্থা ফিরে আসুক

11

মাহমুদুল হক আনসারী

ভোট যেকোনো দেশের নাগরিকের জন্য একটি মৌলিক অধিকার। ভোট আদান প্রদানে জনগণ আনন্দ উল্লাস উপভোগ করে। সাংবিধানিক ভাবে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের কথা লিপিবদ্ধ আছে। বাংলাদেশে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্বাধীন ভাবে সেই সব নির্বাচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা নির্বাচন সমূহে আনন্দ উদ্দীপনার মাধ্যমে অংশ নিয়ে থাকে। সেই নির্বাচন সমূহে ভোটার গণ তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। ভোটের সমস্ত কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ভাবে পরিচালনা করে।
স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দীর বাংলাদেশে অনেক গুলো নির্বাচন জনগণ পর্যবেক্ষণ করেছে। ভোট আদান প্রদানে অংশ নিয়েছে। প্রার্থীরা নির্বাচনে জয় পরাজয় হয়েছে। আনন্দ উল্লাস মিছিল মিটিং র‌্যালী পথ সভা উঠান বৈঠক পাড়া মহল্লায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনগণ এই সব ভোটের সংস্কৃতি উপভোগ করেছে। এই আনন্দ ভোটারদের জন্য এবং প্রার্থীরা সকলেই ভাগাভাগি করে উপভোগ করে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব পেশা ও গোত্রের জনগণ ভোটের আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। বিগত কয়েকবছর ধরে নির্বাচনী আনন্দ উল্লাস ভোটের সংস্কৃতি কিছুটা পরিবর্তন হতে দেখছি। নির্বাচনের কার্যক্রম প্রার্থী নির্বাচন, ভোট প্রদান বিজয়ী জয় ও পরাজয় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নানাবিধ সমালোচনার জন্ম হয়েছে। কারণ, কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে দেশের ভোটার জনতা স্বতস্ফুর্ত ভাবে ভোট সংস্কৃতিতে অংশ নিতে পারেনি। জনগণের অভিযোগ তারা তাদের মৌলিক অধিকার ভোট ইচ্ছে মতো মনের প্রার্থীকে প্রদান করতে পারেনি। তাদের ভোট কে বা কারা আগে ভাগেই দিয়ে ফেলেছে। আবার কোনো কোনো নির্বাচনী এলাকায় ভোটার গণ ভোট দিয়েছে এক মার্কায়, জয়ী হয়েছে অন্য মার্কার। যাকে খুশি তাকেই ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করার ভোটারদের যেই সংস্কৃতি ছিলো সেটি জনগণ হারিয়ে ফেলছে বলে অভিযোগ শোনা যায়। কেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুষ্ঠান কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশন ও সমস্থ প্রশাসনের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব। জনগণের মৌলিক অধিকার ভোট নামক সমস্থ অনুষ্ঠান সুষ্ঠু সুন্দর ও সম্পূর্ণ নিরেপক্ষ ভাবে করার দায়িত্ব প্রশাসনের। এটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। জনগণের নিকট প্রশাসন এই বিষয়ে দায়বদ্ধ।
কিন্ত কেন কী কারণে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন ভোটের সুন্দর সুস্থ পরিবেশ শৃংখলাকে কেনো রক্ষা করতে পারলো না সেই জায়গাতে দেশের সচেতন জনগণের অসংখ্য প্রশ্ন। এই সব বিষয়ে কোথায় কী গলত ও সমস্যা আছে বা তৈরী হয়েছে সেটি চিহ্নিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। জনগণের হয়ে বেশী চুল চিরা আলোচনা বা সমালোচনা করার মতো পরিবেশ আছে বলে মনে হয় না। অভিযোগ যেগুলো আমরা দেখছি কর্তৃপক্ষও সেই অভিযোগ দেখতে পাচ্ছে। সমাধান তাদের হাতে। আমরা নাগরিক হিসেবে বলার চেষ্টা করি সমস্যা চিহ্নত করে সমাধান দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যেহেতু ভোট জনগণের নাগরিক মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। সেটির যথাযথ বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যদি দল নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ সুন্দর অভিযোগ বিহীন সকল দল ও মতের অংশ গ্রহণে নির্বাচন সমূহ অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে জনগণের কোনো অভিযোগ বাধা থাকার কথা নয়।
জনগণ চায় তাদের অধিকার সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে। সেই সুযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে করে দেওয়ার বাধ্য বাধকতা আছে। অন্যথায় নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন অভিযোগ থাকা স্বাভাবিক বিষয়। এই সব অভিযোগ যেনো জনগণ করতে না পারে সেভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা দরকার। সকল দলের আদর্শ ও মতের মানুষ যেনো নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে স্ েসুযোগ থাকা চাই। রাতের অন্ধকারে নির্বাচনী ষড়যন্ত্র কোনো ভাবে কাম্য নয়। অর্থের লোভে কালো টাকার অফার জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে আদান প্রদান যদি হয়ে থাকে এই সব কালচার জাতির জন্য মারাত্মক লজ্জার বিষয়।
আগামীতে সব ধরনের নির্বাচনে জনগণ দল নিরপেক্ষ ষড়যন্ত মুক্ত পরিবেশে ভোটার গণ তাদের ভোট প্রয়োগ করতে চায়। সাংবিধানিক অধিকার জনগণ সম্পূর্ণ ভাবে রাষ্ট্রের নিকট দাবি করে। ভোটকে সামনে রেখে মারামারি হাঙ্গামা ধর্মঘট, অবরোধ, হরতাল কামনা করেনা। দেশি বিদেশী সব ধরনের নির্বাচনমুখী ষড়যন্ত্রের হাত থেকে জাতি নিরাপত্তা চায়। বাংলাদেশের নির্বাচন ভোট ও অনুষ্ঠান সবকিছু দেশের সরকার প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন জনগণের মতামতের ভিত্তিতে ঠিক করবে। রাজনৈকি দলের সাথে আলোচনা করবে সমাধান খুঁজে বের করবে। সমস্যা আমাদের সমাধান এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সরকার সমাধান করবে। এই সুযোগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেকোনো দেশের ষড়যন্ত্রের থাবা দেশপ্রেমিক জনগণ গ্রহণ করবে না। দেশ বিরোধী যেকোনো ধরনের জাতীয় আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র জনগণ প্রতিহত করবে। রাষ্ট্রের নিকট জনগণের প্রত্যাশা সাংবিধানিক নিয়ম নীতি রক্ষা করে আগামী সব ধরনের নির্বাচন সমূহ যেনো জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে করা হয়। ভোটের মাধ্যমে জন প্রতিনিধি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণ তাদের মনোনীত নেতৃত্ব বাছাই করে নিবে। এই প্রত্যাশা রেখে জনগণ আগামী সমস্ত নির্বাচনগুলো দেখতে চায়।

লেখক : সংগঠক, গবেষক, কলামিষ্ট