ভোগ্যপণ্যের দাম কমছে

25

নগরীর বৃহত্তম বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জে বেশ কিছুদিন ধরে মূল্যবৃদ্ধি থাকার পর এবার দাম কিছুটা কমতির দিকে। অর্থাৎ ভোগ্যপণ্যের দাম এখন কমছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাসের শেষ পর্যায়, আর ক্রেতা সংকটের ফলে দাম কমছে। ভোক্তারা বলছেন, পাইকারি মূল্যে দাম কমানোর পাশাপাশি খুচরা মূল্যেও দাম কমানো প্রয়োজন। অন্যদিকে চলতি সংকট নিরসনে যারা পেঁয়াজ আমদানি করেছেন, তারাও এখন লোকসানে। ব্যবসায়ীরা আমদানিমূল্যের অর্ধেকে এখন পেঁয়াজ বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। গতকাল সোমবার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ বাজার (পাইকারি) ঘুরে দেখা গেছে, পাকিস্তানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৭ থেকে ২৮ টাকা, ইরানি পেঁয়াজ কেজি ৪৫ টাকা, মিশরের পেঁয়াজ কেজি ২৫ টাকা, চীনা পেঁয়াজ ২০ থেকে ২২ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ডালের দামও এরই মধ্যে কমেছে। সে অনুযায়ী মধ্যম মানের মশুর ডাল পূর্বে ছিল কেজি ৭০ টাকা, বর্তমানে ৫ টাকা বেড়ে ৭৫ টাকা, দেশি চিকন মশুর ডাল পূর্বে ছিল কেজি ১২০ টাকা, বর্তমানে ১৮ টাকা কমে ১০২ টাকা, মটর ডাল কেজিতে ৭ টাকা কমে ৩৩ টাকা, মুগডাল মানভেদে কেজিপ্রতি ৯৫ থেকে ১২০ টাকা, চনার ডাল কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডালের বিষয়ে খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক এফএম ট্রেডার্সের স্বত্ত¡াধিকারী মো. মহিউদ্দিন বলেন, বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত ডাল রয়েছে। সে অনুযায়ী ক্রেতাও অনেক কম, তাই ডালের দাম এখন একটু কমে বিক্রি হচ্ছে।
রসুন ২৫ টাকা কমে ৭৫ টাকা, আলু ৩ টাকা বেড়ে ৪৩ টাকা, আদা কেজি ৪০ টাকা (কেরালা, ভারত), ধনিয়া মানভেদে কেজি ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা, ভারতের চিকন জিরা কেজি ২৫৫ টাকা, সিরিয়ার জিরা কেজি ২৯০ টাকা, গোলমরিচ কেজি ৪২০ টাকা, লবঙ্গ কেজি ৬২০ টাকা, চায়না দারচিনি ২৬৫ টাকা কেজি, ভিয়েতনামের দারচিনি ৩৫০ টাকা কেজি, এলাচি মানভেদে ২ হাজার ১৮০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ভারতের মোটা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০০ টাকা, ভারতের চিকন মরিচ কেজি ২৬০ টাকা, দেশি হাটহাজারী মরিচ কেজি ২৮০ টাকা, রায়পুরের মরিচ কেজি ১৯০ টাকা এবং পঞ্চগড়ের মরিচ কেজি ১৫৫ টাকা।
এছাড়া বাজারে পাম তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ৩ হাজার ৩৩০ টাকা অর্থাৎ কেজি ৮৯.২২ টাকা, সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ৩ হাজার ৮২০ টাকা অর্থাৎ কেজি ১০২.৩৫ টাকা এবং চিনি গত সপ্তাহ থেকে ৪০ টাকা কমে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ২ হাজার ১২০ টাকা অর্থাৎ কেজি ৫৬.৮০ টাকায়।
ভোক্তা মো. সেলিম বলেন, পাইকারি বাজারে অনেক পণ্যের দাম কমে আসলেও এখনো খুচরা বাজারে কমেনি। প্রশাসনের উচিত চাক্তাই খাতুনগঞ্জে বাজার মনিটরিং এর পাশাপাশি খুচরা বাজারও যেন মনিটরিংয়ে রাখে। আমরা চাই বাজারের সব ধরনের ভোগ্যপণ্য যেন হাতের নাগালে চলে আসে। মধ্যবিত্তরা যেন শান্তিতে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভোগ্যপণ্য নিয়ে খাদ্য, বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে কাজ করে যাচ্ছি। তবে বাজারে কোন অসঙ্গতি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।