ভেজাল প্রতিরোধে গড়ে উঠুক সামাজিক আন্দোলন

7

মীর আব্দুল আলীম

ভেজাল খেয়ে মানুষ আজ নানা রোগে আক্রান্ত। দেশটাতে বিষ মেশানো খাবারেই লুকিয়ে থাকে ক্যান্সারসহ নানা মারণ ব্যাধি! এসব খাবার খেয়ে নানান কিছিমের রোগ অনেকের জীবন নাশ করেছে; অনেকের শরীরের কঠিন ব্যাধি বাসা বেঁধে আছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ভেজাল আর বিষ মেশানো খাবার ক্যান্সারসহ জটিল রোগের কারণ। এসব রোগবালাইয়ের পেছনে চিকিৎসা ব্যয়ে অনেকেই আজ নিঃস্ব। তবুও ভেজালের বিরুদ্ধে আমরা জেগে উঠছি না কেন? ভেজার খাদ্যের ব্যাপারের আমরা যেমন সচেতন নই; যে বিষয়টি রাষ্ট্রের দেখার কথা এ সংক্রান্ত রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো মোটেও দায়িত্বশীল নয় বলেই প্রতিয়মান।
সম্প্রতি বিবিসির এক সংবাদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক একটি সংস্থা বলছে, দেশটিতে বছরে দেড় লাখের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। বাংলাদেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যবস্থা যা আছে, তা একদিকে অপ্রতুল এবং অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে অনেক ব্যয়বহুল। আক্রান্তদের অনেকে চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ক্যান্সার সম্পর্কিত অনলাইন ডাটাবেজ গেøাবোক্যানের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। যার মধ্যে ৯১ হাজারের অধিক মানুষই মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিচালক বলছেন প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি। এর পরেও কি আমাদের সচেতন হবার সময় আসেনি? ভেজাল আর বিষ মেশানো ছাড়ার খাবার কবে মিলবে এদেশে?
ছোটবেলায় চাচা বলতেন- “বাবারে! কম খাবি তো বেঁচে যাবি।” আমার চাচার মতে কম খাবারে কম ভেজাল; আর তাতেই তাঁর দৃষ্টিতে বেঁচে যাওয়া। তিনি বেঁচে নেই, অর্ধজীবন পার না করতেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। চাচার কথার মর্মার্থ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। যখন কলেজে পড়ি তখন এক বন্ধুর সাথে খুব ভাব হয়েছে আমার। সে ছিলো আমার জানের দোস্ত। ফুসফুসে ক্যান্সারে প্রাণের দোস্তটা মারা গেছে। আমার এলাকার (নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ) এক সাবেক জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান মোবাইলে কান্নাজড়িত কন্ঠে আমার কাছে ক্ষমা চাইছিলেন। কি হয়েছে বলতেই তিনি জানালেন, ডাক্তার তাঁকে জানিয়েছেন, ৮০ ভাগ লিভারই নাকি নষ্ট হয়ে গেছে তাঁর। খাদ্যে ভেজালের জন্যই এমন হচ্ছে। ভেজালে ছেয়ে গেছে গোটা দেশ। বোধ করি খাদ্যে এমন ভেজাল আর কোনো দেশে নেই।
ভয় হচ্ছে; ভীষণ ভয়! আমিও ক্যান্সারে আক্রান্ত নইতো? পরিবারের সদস্যরা ভালো আছেনতো? পাঠক আপনারাই বা কতটা সুস্থ আছেন? সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি আপনারা সুস্থ থাকুন। কিন্তু যেভাবে ভেজাল খাবার খাচ্ছেন তাতে কতদিন সুস্থ থাকবেন? এ প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট তিন বছরের খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে ৫০ শতাংশ খাদ্যে ভেজাল পেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রেলিয়ার ওলিংগং বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে গবেষণা জরিপ করে দেখেছে যে, দেশের মোট খাদ্যের ৩০ শতাংশে ভেজার রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার ৬৬ শতাংশ রেস্তোরাঁর খাবার, ৯৬ শতাংশ মিষ্টি, ২৪ শতাংশ বিস্কুট, ৫৪ শতাংশ পাউরুটি, ৫৯ শতাংশ আইসক্রিম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি। এসব খেয়ে দেশের মানুষ আর সুস্থ নেই। গোটা দেশটাই অসুস্থ হয়ে পরছে। মাঝে মাঝে ভাবী, এসব কী হচ্ছে দেশে। সব শেষ হয়ে যাচ্ছে না তো? দশম শ্রেণি পড়–য়া ছেলেটার মাথার চুলে চোখ পড়তেই চোখ যেন ছানাবড়া। সাদা চুলে আটকে গেল চোখ। অসংখ্য চুলে পাক ধরেছে। ভাগ্নেটার চোখে মোটা পাওয়ারওয়ালা চশমা। বিছানায় কাতরাচ্ছেন ক্যান্সারে আক্রান্ত চাচি। ক্যান্সারে মারা গেছেন বড় মামা, চাচা। লিভার নষ্ট হয়ে অকালেই দুনিয়া ছেড়েছেন ভগ্নিপতি। খাবারে ভেজালের জন্যই এমন হচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে? মাছ, ফলমূল, তরকারিতে কোথায় নেই এই জীবনহন্তারক ফরমালিন। তেলে ভেজাল, এমনকি নুনেও ভেজাল। কেউ কেউ তো বলেনই বিষেও নাকি ভেজাল। তাই যা হওয়ার নয়, তাই হচ্ছে। কিডনি নষ্ট হচ্ছে, ক্যান্সার আর হার্টস্ট্রোকে অহরহ মানুষ মরছে। আমরা জানি, বিষ খেয়ে মানুষ মরছে; চুপ করে কী করে থাকি? যারা ভেজাল খাবারমুক্ত দেশ গড়ার ক্ষমতা রাখেন তারা কি করে চুপ থাকতে পারেন? মনে রাখবেন, আপনি, আমি, আমরা, আমাদের সন্তান, পিতা-মাতা, স্বজন কেউ এখন আর নিরাপদ নন। সব কিছু শেষ হয়ে যাবার আগেই আমাদের ভাবতে হবে। প্লিজ, প্লিজ আপনারা দেশের জন্য কিছু করুন। দেশের মানুষের জন্য কিছু করুন। তা নাহলে যে, সৃষ্টিকর্তার দরবারে আপনাদের একদিন জবাবদিহি করতেই হবে। ‘মাছে-ভাতে বাঙালির মাছে ফরমালিন আর ভাতের চালে প্রাণঘাতী ক্যাডমিয়াম!’ বাঙালি মাছ-ভাত খেয়েই বাঁচে। সে জায়গায়ও বিষের ছড়াছড়ি। খাদ্য যদি অনিরাপদ হয় তাহলে দেশের মানুষ কী খাবে? এ দেশে নিরাপদ খাবার আদৌ কি আছে? কেবল মাছ-ভাত নয়, সব খাবারই তো ভেজালে ভরা। ভেজাল খেয়ে গোটা জাতি আজ রোগাক্রান্ত। অথচ অতিসহজেই এ দেশকে ভেজালমুক্ত করা সম্ভব। এটা বলবই, সরকার সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা নেই তাই দেশ ভেজালমুক্ত হচ্ছে না। ভেজাল রোধে কোনো সরকারই সচেষ্ট নয়। ফরমালিনের বাপারে বর্তমান সরকার কঠোর হলেও যে যাত থমকে গেছে। তাই ভেজাল খাদ্যে ভরে গেছে দেশ। আমরা যা খাচ্ছি তার অধিকাংশই ভেজালে ভরা। সেদিন রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পড়–য়া এক ছাত্রের প্রশ্ন ছিল এমন- ‘বাবা! কচুতে মাছি, ফলে নেই কেন?’ বাবার কাছে প্রশ্নটা করলেও উত্তরটা কিন্তু তার ঠিকই জানা। খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক এক গবেষণার তথ্য মতে, এদেশের ৪০ শতাংশেরও বেশি খাবারে ভয়ংকর সব রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়। যারা ভেজাল মেশায় তাদের ধরে আইনের আওতায় আনতে হবে। খাদ্যে ভেজালে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করতে হবে। সেই সঙ্গে অপরাধীদের ধরে সাজা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভেজালের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও অনেক বেশি সচেষ্ট হতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে একজন স্যানেটারি ইন্সপেক্টর দিয়ে কখনই ভেজাল রোধ হবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের গতি বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সকল পৌরসভা তথা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল স্যানেটারি ইন্সপেক্টরকে যুক্ত করলে অতি দ্রæত ভেজালের বিরুদ্ধে উদ্যোগটি সফলতার মুখ দেখবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সরকারি ও বেসরকারি যেসব সংস্থা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে তাদের পাশে নাগরিক সমাজকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন।
ভেজাল ঠেকাতেই দেশে বিএসটিআই রয়েছে, জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরাই বা কী করছে? এ বিভাগটির সুফল আশান্বিত হওয়ার মতো নয়। ভেজালের বিরুদ্ধে দেশে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়, সভা-সেমিনার হয়; কিন্তু ভেজাল রোধ হয় না কেন? এ বিষয়ে দেশে আইন আছে; সেই আইনে কারও কখনো শাস্তি হয় না।
আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এ ব্যাপারে কখনোই সচেতন হয়ে ওঠে না। জনগণও না। দেশে বছরজুড়েই নানা ইস্যুতে আন্দোলন হয়, হরতাল-অবরোধ হয়; কিন্তু ভেজালের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেয়া হয় না কখনো। আন্দোলন তো দূরের কথা ভেজালের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করে না কেউ। তাঁরা (রাজনৈতিকরা) চাইলে কয়েক মাসেই ৮০ থেকে ৯০ ভাগ খাদ্যে ভেজাল রোধ করা সম্ভব। প্রকৃতই ভেজালকারীদের সংখ্যা এত বেশি যে, ভেজালের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে আমাদের রাজনৈতিকদের উল্টো না ভেজালে জড়িয়ে পড়তে হয় এ ভয়ে হয়তো তারা একদম রা..(শব্দ) করেন না। ফলে আজ ভেজাল খেয়ে আমাদের এ কী অবস্থা! হাসপাতালগুলোতে কত ধরনের রোগ-বালাই নিয়েই না ছুটছে মানুষ। মানুষ যত না বাড়ছে তুলনামূলক হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ছে। যে উপজেলায় আমার জন্ম সেখানে ১০ বছর আগে ২ লাখ লোকের জন্য ছিল সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দুটি হাসপাতাল। এখন তিন লাখ লোকের জন্য হাসপাতাল গড়ে উঠেছে ১১টি। আমি নিজেও একটি হাসপাতালের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। গত দশ বছরে ওই হাসপাতালের আয় ৪গুণ বেড়েছে। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। রোগবালাই রেড়েছে তাই রোগির ভিড় বেড়েছে। এ কথা সত্য যে, ভেজাল খেয়ে মানুষ শুধু অসুস্থই হচ্ছে না, প্রতিদিন মরছে অসংখ্য মানুষ। ভেজাল রোধ না হলে, খাদ্যে ভেজালের গতি এমনটাই যদি থাকে তাহলে যে হারে মানুষ মরবে তা শুধু দেশবাসীকেই নয়, যারা সারাবিশ্বে স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন তাদেরও মাথাব্যথার কারণ হবে। প্রশ্ন হলো, কীভাবে ভেজাল রোধ করা যায়? মাত্র ৬ মাসের কর্ম-পরিকল্পনায়ই ৮০ ভাগ ভেজালমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে আমরা মনে করি। কিন্তু কীভাবে?
(১) দেশে ভেজালবিরোধী জাতীয় কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটিতে সৎ এবং যোগ্য চলতি দায়িত্বে থাকা এবং অবসরপ্রাপ্ত আমলারা থাকবেন। অবসরপ্রাপ্ত সৎ ব্যক্তিদের এ কমিটির আওতাভুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এক সময়ে রাজধানী ঢাকার ভেজালের বিরুদ্ধে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ-দৌলাদের মতো ব্যক্তিদের বেশি কাজে লাগানো যেতে পারে। কারো সাথে ভেজালের ব্যাপারে আপোস করেননি বলেই রোকন-উদ-দৌলা অল্প সময়ে ভেজালকারবারীদের হৃদপিÐে কম্পন ধরাতে সক্ষম হন।
(২) খাদ্যে ভেজালে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করতে হবে। সেই সঙ্গে অপরাধীদের ধরে সাজা নিশ্চিত করতে হবে।
(৩) প্রকাশ্যে সাজার ব্যবস্থা করতে হবে। সাজা হতে হবে শারীরিক এবং আর্থিক। প্রয়োজনে মৃত্যুদÐের ব্যবস্থা করতে হবে।
(৪) র‌্যাবের সৎ কর্মঠ অফিসারদের ভেজালের বিরুদ্ধে অতিরিক্তি দায়িত্ব দিয়ে ৬ মাস মাঠে রাখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভেজালের বিরুদ্ধে র‌্যাবকে মূল ভূমিকায় রাখা যায়।
(৫) ৬ মাস পরীক্ষামূলক প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যকর থাকতে হবে। এ ভ্রাম্যমাণ আদালত ভেজালবিরোধী জাতীয় কমিটি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে একজন ম্যাজিস্ট্র্রেটের পাশাপাশি র‌্যাব পুলিশের ভূমিকা রাখবে।
(৬) অন্য কোনো ইস্যুতে যেহেতু সম্ভব নয়, অন্তত দেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য এবং জীবনের কথা ভাবনায় এনে আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে ভেজালের ব্যাপারে প্রথমে ঐকমত্য হতে হবে। মাত্র ৬ মাস তারা এ বিষয়ে অন্তত সভা-সেমিনার বৈঠক এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। এভাবেইতো চলছে আমাদের জীবন! এভাবে আর চলে না। আমরা নিরাপদ খাদ্য পেতে চাই; আমরা নিরাপদ খাদ্য আমাদের সন্তানের মুখে তুলে দিতে চাই। আপনারা, আমরা, এ রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে জেগে উঠুক ভেজালের বিরুদ্ধে। ‘ভেজাল দেবনা, ভেজাল খাবনা, ভেজাল কারবারীদের আর রক্ষা নেই’ এই হোক আমাদের আজকের ¯েøাগান।।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সমাজ গবেষক