ভূমি ব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতি ও সুফল

19

জসিম উদ্দিন মনছুরি

তুমি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অন্যতম একটি উপাদান। ভূমিহীন দেশের অস্তিত্ব অকল্পনীয়। ভূমিহীন মানুষ নিঃস্ব রিক্ত। ভূমি ব্যবহার করে কৃষক ফলায় সোনালি ফসল। মাটি থেকে মানুষকে সৃষ্টি করা হয় এবং খাদ্যের যোগান হয়।মাটি মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। মাটির দেহ মাটির সাথে মিশে যাবে এটাই স্বাভাবিক। যুগে যুগে মাটি রা ভূমির মালিকানা পরিবর্তন হয়ে আসছে। বংশপরম্পরায় মালিকানার পরিবর্তন হয়। পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে ভূমির মালিকানা পরিবর্তন হয়ে আসছে। মাটি বা ভূমি দখলে রাখার জন্য চলছে সংঘর্ষ মারামারি হানাহানি। মাটির ব্যবহারের স্বচ্ছতা আনতে প্রাচীন যুগ থেকে মালিকানার ডকুমেন্ট বা প্রমাণাদির ব্যবস্থা করা হয়ে আসছে।
ভূমির মালিক হচ্ছে সরকার। সরকার যে কোন সময় যে কোন প্রয়োজনে ভূমি চাইলে দিতে বাধ্য থাকবে। মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে ভূমি ব্যবহার করে শিল্প কারখানা ও কৃষি ব্যবস্থা চালু করে আসছে। ভূমি ব্যবহার করে কৃষক ফসল ও শাক সবজি উৎপন্ন করে দেশের অপামর জনসাধারণের চাহিদা মিটিয়ে আসছেন। দলিলের মাধ্যমে কিবা জরিপের মাধ্যমে ভূমি, জনগণকে বুঝিয়ে দিয়ে থাকেন সরকার।
বিনিময়ে সরকার কর বা রাজস্ব আদায় করে থাকেন। মূলত জরিপের মাধ্যমে ভূমির মালিকানা নির্ণয় করা হয়ে থাকে। বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বর্তমানে ভূমি ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছে। তাতে জনগণ ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছে। ডিজিটাল পদ্ধতির পূর্বে খাজনা প্রদানের জন্য ভূমি অফিসে গিয়ে ভূমিকর প্রদান করা হতো তাতে ভূমি মালিকদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে ভূমি ব্যবস্থায় যে কোন এলাকার যে কোন প্রান্ত থেকেই কর প্রদান করা যায়। তাছাড়া নামজারিতে ই-নামজারি পদ্ধতি চালু হওয়ায় কাজ অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। ভূমি রেজিস্ট্রেশন এর ২১ দিনের ভিতর এই নামজারি পদ্ধতিতে নামজারি খতিয়ান হাতে পাওয়া যায়। যা সরকারের ব্যাপক সাফল্যের অন্যতম একটি দিক। ই-নামজারি পদ্ধতি চালু হওয়ায় প্রতারণাও অনেকটা কমে এসেছে বললেই চলে। কোন কোন ক্ষেত্রে এক সপ্তাহের ভিতর নামধারী খতিয়ান হাতে পাওয়া যায়। দুর্ভাগ্যবশত কিছু কিছু কর্মকর্তা ই-নামজারিতেও সেবা প্রার্থীদের হয়রানির শিকার করে থাকেন।
সুকৌশলে তারা কালক্ষেপণ করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ আদায় করে থাকেন। যা কোনক্রমেই কাম্য নয়। যেখানে এক সপ্তাহের ভিতর ই নামজারি হাতে পাওয়া যায় তাতে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কয়েক মাসেও নামজারি খতিয়ান হাতে পাওয়া যায় না। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বটে যে, আমার এক নিকট আত্মীয় চট্টগ্রাম সদর সার্কেলে নামজারী খতিয়ান খুলতে দিলে ভূমি অফিসের কর্মচারীর অবজ্ঞা ও অবহেলায় তা দুই মাস অব্দি পাওয়া যায়নি। অজুহাত হিসেবে কানুংগো অসুস্থ ভাগ্নি অসুস্থ বলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে বলে খবর পাওয়া যায়। যা মোটেই কাম্য নয়।
ভুক্তভোগীরর প্রশ্ন হল এক কানুংগোর অবর্তমানে কি অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যায় না? কানুংগোর জন্য কি সরকারি অফিস থেমে থাকবে? ভুক্তভোগীর ধারণা তা নিছক মাত্র হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করে নেওয়া। গ্রামে যেখানে সাত দিনের ভিতর এই নামজারি খতিয়ান পাওয়া যায়। তাতে শহরে তো তিনদিনে পাওয়ার কথা। এই কালক্ষেপণ কিংবা বিলম্ব কি দেখার কেউ নেই? যেখানে ই নামজারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে দ্রæত সময়ের মধ্যে নাম জারি খতিয়ান ভূমি মালিকের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। ডিজিটাল পদ্ধতিতে দুর্নীতি অনেকটা কমে গেলেও দুর্ভাগ্যবশত কিছু কিছু কিছু কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী হয়রানি করে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করে থাকেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সকলের নজরদারি বাড়ানো দরকার বলে ভূমি মালিকদের দাবি। অন্যথায় সরকারের ব্যাপক সাফল্যের মাঝেও ডিজিটাল ভূমি পদ্ধতিতে কিছু কিছু অনিয়ম থেকে গেলে তা সরকারের মান ক্ষুণœ হবে বই কি! ভূমি মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা ও দাবি দ্রæত সময়ের মধ্যে হয়রানি বন্ধ করে ই নামজারি সহ ভূমি আইনের সফল বাস্তবায়ন করা হোক।
লেখক: প্রাবন্ধিক