ভূমি অধিগ্রহণে আটকে আছে চসিকের বাস-ট্রাক টার্মিনাল

35

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও বাস-ট্রাক টার্মিনাল প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায় ২০১৮ সালের অক্টোবরে। সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষের দিকে হলেও বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ ঝুলে আছে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায়। জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণ শেষে করে চসিককে বুঝিয়ে দিলে কাজ শুরু হবে। এখনও ৭ ধারা নোটিশ দেয়নি জেলা প্রশাসন। গত সোমবার মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা সভায় ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মন্ত্রীর সহযোগিতা চান প্রকল্প পরিচালক। এদিকে গতকাল স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধি নিয়ে জায়গাটি পরিদর্শন করতে যান সিটি মেয়র রেজাউল। পরিদর্শনকালে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রæত করার বিষয়ে ভূমিমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন বলে জানান।
জানা গেছে, নগরীর কুলগাঁও বালুছড়া এলাকায় ১৬ একর জায়গার ওপর টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পে ভ‚মি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬০ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং জমির উন্নয়ন বাবদ তিন কোটি ৩৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে সাত কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ ইয়ার্ড নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা।
টার্মিনালের মুখে থাকবে চারতলাবিশিষ্ট নানন্দিক ভবন। এই ভবনের প্রথম তলায় থাকবে সিটি বাস টার্মিনাল, আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল, যাত্রী নামার একটি লেন, যাত্রী ওঠার ২৫টি লেন, ১৪টি অতিরিক্ত লেন, ছাদযুক্ত বৃহদাকার খোলা হলরুম এবং তথ্যকেন্দ্র, অত্যাধুনিক ৫টি লিফট, এক জোড়া চলন্ত সিঁড়ি, ৩টি প্রশস্ত সিঁড়ি এবং প্রতিটি ফ্লোরে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথক বৃহদাকার টয়লেট। এখানে থাকবে ২২টি টিকিট কাউন্টার, ওয়াইফাই সুবিধাসহ যাত্রীদের বসার জায়গা, লাগেজ কক্ষ, ট্যাক্সি বুকিং বুথ, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, খাবার দোকান, ৩০টি কার এবং ট্যাক্সি পার্কিং, ৬টি পেট্রোল পাম্প, ৬৯টি বাস ডিপো, ১৭টি ওয়ার্কশপ এবং সার্ভিসিং সেন্টার, ৪টি সাভির্সিং লাইন ও ৮টি রক্ষণাবেক্ষণ ওয়ার্কশপ লাইন। দ্বিতীয় তলায় থাকবে রেস্তোরাঁ, সুভ্যেনির সভা, এসি বাস যাত্রীদের বসার জায়গা। তৃতীয় তলায় বাস কোম্পানিগুলোর অফিস, টার্মিনাল ফ্যাসিলিটিজ এবং চতুর্থ তলায় বাস কোম্পানিগুলোর অফিস, প্যানোরোমা রেস্টুরেন্ট, বাস কর্মচারীদের বেডিং, কমনরুম, টয়লেটসহ নানা সুবিধা। এখানে থাকবে টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্টেশন।