ভাস্কর্য দেশে দেশে মানবতার কথা তুলে ধরে : চবি উপাচার্য

83

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট এবং অঁলিয়স ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামে রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সমকালীন ভাস্কর্য প্রদর্শনী। জার্মানীর মিউনিখ ভিত্তিক সংগঠন স্কাল্পচার নেটওয়ার্কের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে এই ভাস্কর্য প্রদর্শনী চট্টগ্রামে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের চট্টগ্রামসহ সারাবিশ্বের ২১টি দেশের সর্বমোট ৭৫টি ভেন্যুতে গতকাল থেকে এই প্রদর্শনী একযোগে শুরু হয়েছে। এতে অংশ নিচ্ছেন সারাবিশ্বের ৫ হাজার ভাস্কর্য শিল্পী। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, জগন্নাথ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ জন শিল্পী তাদের ভাস্কর্য, স্থাপনাশিল্প ও ত্রিমাত্রিক শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। স্কাল্পচার নেটওয়ার্ক এই প্রদর্শনী শুরু করে ২০১০ সাল থেকে। চট্টগ্রাম এই প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে প্রদর্শনীতে যুক্ত হয় ২০১৬ সাল থেকে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভাস্কর্য মানুষের শিল্প-প্রচেষ্টার আদিতম মাধ্যম। ভাস্কর্য দেশে দেশে মানবতার কথা তুলে ধরে। যারা ভাস্কর্য গড়ার কাজে আছেন তারা সব কালেই মহৎ শিল্পী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম ভেন্যুতে স্টার্ট-২০১৯ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম সহ বাংলাদেশ বিশ্ব ভাস্কর্য প্রদর্শনীর সাথে যুক্ত হলো।
তিনি বলেন, এই ভাস্কর্যই সারা পৃথিবীর মানুষের ঐক্যের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে বর্তমান আধুনিককাল পর্যন্ত চিত্রকলার পাশাপাশি ভাস্কর্য তার আপন বৈশিষ্ট্যে আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে গণ্য হয়েছে। এই ভাষা কখনো দেশ-কালের সীমারেখা মানে নি, বরং মানব সভ্যতার ইতিহাস সন্ধান, নৃতাত্ত্বিক গবেষণা, মানবসভ্যতার ক্রম-অগ্রসরমান সংস্কৃতি ও সামাজিক বিবর্তনের অনেক খুঁটিনাটি তথ্যপ্রদান করে মানুষের জ্ঞানানুসন্ধানকে সমৃদ্ধ করছে।
মানব-সভ্যতার বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ভাস্কর্যশিল্পেও অনেক বিবর্তন-পরিবর্তন ঘটেছে উল্লেখ করে চবি উপাচার্য বলেন, ভাস্কর্য সব সময় মানবতার পক্ষেই কথা বলেছে। মানুষের দুঃখ-বেদনা, বিজয়-গৌরব, সংবেদনশীল মনের নানা কথা শিল্পীরা তাদের ভাস্কর্যের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গড়ে তোলা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য। চারুশিল্পীরা মানবসম্পদ, তাই চারুকলা ইনস্টিটিউটকে শীঘ্রই চারুকলা অনুষদে রূপান্তরের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রয়োজনে ভাস্কর্য নির্মাণ ও সংরক্ষণের জন্য বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আরো জায়গা প্রদান করা হবে।
প্রফেসর ড. ফয়েজুল আজিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, দেশের বরেণ্যশিল্পী ও প্রখ্যাত ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পুত্র এবং শিল্প শুভানুধ্যায়ী মাইনুল আলম, অঁলিয়স ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের পরিচালক ড. সেলভাম থোরেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক শায়লা শারমিন।
স্বাগত বক্তব্য দেন প্রদর্শনীর চট্টগ্রাম হোস্ট ভেন্যু কো-অর্ডিনেটর ভাস্কর্য শিল্পী এবং ইসস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক প্রণব মিত্র চৌধুরী। আরো বক্তব্য দেন স্পন্সর প্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপের ব্র্র্যান্ড ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, চারুকলায় আন্তর্জাতিক ভাস্কর্য প্রদর্শনীর আয়োজনের মধ্য দিয়ে যে সঙ্গীতের সূচনা হলো তা দেশে দেশে মানুষের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে।
অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সাথে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের সম্পর্ক আরো নিবিড় হবে।
প্রদর্শনীর বিশেষ অতিথি ও চট্টগ্রাম হোস্ট ভেন্যু কিউরেটর, অঁলিয়স ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের পরিচালক ড. সেলভাম থোরেজ বলেন, ফ্রান্সের সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারকের আওতায় চারুশিল্পীদের প্রতি সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। অতীতের চেয়ে এ কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হয়েছে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক ও শিল্পী ড. সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ। প্রদর্শনীর স্পন্সর প্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপের কেইনো ফার্নিচার ও ভিগো ইলেক্ট্রনিক্স। অনুষ্ঠানের শুরুতে চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীরা অতিথিদের কোট পিন পরিয়ে দেন এবং স্টার্ট-২০১৯ এর ক্রেস্ট তাদের হাতে তুলে দেন। প্রাণ আরএফএল ও ভিগো ইলেক্ট্রনিক্সের পরিচালক (মার্কেটিং) চৌধুরী কামরুজ্জামান এবং রাশেদুল ইসলামকেও প্রদর্শনীর স্মারক উপহার দেয়া হয়।
প্রদর্শনী আগামি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সবার জন্য ইনস্টিটিউটে শিল্পী রশিদ চৌধুরী গ্যালারী সহ খোলা প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং অলিঁয়স ফ্রঁসেজ গ্যালারিতে রবিবার ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। উভয় ভেন্যুতে ৭৮টি বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্য ও স্থাপনাশিল্প প্রদর্শিত হচ্ছে।
­