ভালো ফলাফলেও জায়গা হবে না সরকারি কলেজে

50

আসহাব আরমান

আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হবে। যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। তবে ভালো ফলাফল করেও অনেক শিক্ষার্থীর নগরীর ৮ সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ হবে না। কারণ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের তুলনায় নগরীর সরকারি কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা কম। এসব শিক্ষার্থীকে বিভাগ পরিবর্তন করে অথবা নগরীর বাইরে অন্য কোনো কলেজে ভর্তি হতে হবে।
জানা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের তুলনায় চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় সরকারি কলেজের আসন সংখ্যা অনেক কম। ফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না। এবার এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে ১৮ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ১৮ হাজার ৬৬৮ জনের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২২৩ জন। আর চট্টগ্রাম নগরীর ৮টি সরকারি কলেজের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য আসনসংখ্যা বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৪০০টি। সে তুলনায় সরকারি কলেজগুলোতে আসন নেই।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মো. জাহেদুল হক জানান, কলেজের সক্ষমতা বিবেচনা করে কয়েক ধাপে আসন বাড়ানো হয়েছে। এ বছর আর আসনসংখ্যা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এছাড়া এ বছর নগরীর ৮টি সরকারি কলেজে মোট আসনসংখ্যা ৯ হাজার ৭০০টি। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩ হাজার ৪০০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৩ হাজার ৬৫০টি এবং মানবিক বিভাগের আসনসংখ্যা ২ হাজার ৬৫০টি। জিপিএ-৫ পাওয়া অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর হয়তো নগরীর সরকারি কলেজগুলোতে ভর্তির সুযোগ হবে না। কিন্তু নগরীর বাইরে অনেক কলেজ আছে, সেগুলোতেও শিক্ষার মান যথেষ্ট ভালো। সেখানে ভর্তির সুযোগ হবে। সুতরাং অভিভাবকদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।কলেজ অনুযায়ী আসনসংখ্যা: চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৬০টি এবং মানবিক বিভাগে ৩৮০টি। সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৭৩৫টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৬০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৬১৫টি এবং মানবিক বিভাগে ৪৬০টি। সরকারি কমার্স কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯০০ আসন রয়েছে। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দুই শিফটে (দিবা ও নৈশ) মোট আসন সংখ্যা ২ হাজার ১৮০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে (দিবা) ৬৬০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দিবা ও নৈশ শাখায় ৩৮০টি করে মোট ৭৬০টি আসন রয়েছে। এছাড়া, মানবিক বিভাগের দিবা ও নৈশ শাখায় ৩৮০টি করে মোট ৭৬০টি আসন রয়েছে।
এছাড়া, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪০০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫০০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৫০০টি এবং মানবিক বিভাগে ৪০০টি আসন রয়েছে। বাকলিয়া সরকারি কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪২৫টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৪৫০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৫২৫টি এবং মানবিক বিভাগে ৪৫০টি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১৮০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৯০টি এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯০টি আসন রয়েছে। চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে মোট আসন সংখ্যা ৮৪০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৮০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২৬০টি এবং মানবিক বিভাগে ২০০টি আসন রয়েছে।
এইচএসসিতে ভর্তির ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, এ বছর যে পরিমাণ শিক্ষার্থী এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে তার চেয়ে বেশি আসন রয়েছে এইচএসসির জন্য। এইচএসসির ভর্তি কর্যক্রম সুনির্দিষ্ট নিয়মে বরাবরের মতো অনুষ্ঠিত হবে। তাই যেসব শিক্ষার্থী এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের ভর্তি প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সকলেই সুযোগ পাবে।