ভালো থাকুক নারী

25

 

মানবজীবন অতি ক্ষুদ্র একটি সময়। এই ক্ষুদ্র সময়েই নিজেকে গুছিয়ে নিতে হয়। আর জীবন যুদ্ধে সকল নারী-পুরুষই সমান। তবে ক্ষেত্রবিশেষে নারীদের নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সামনে আলোকপাত করবো। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’ এখানে বিভেদ না করে বলতে চাই, একজন নারীকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে প্রচুর পরিশ্রম এবং রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। সেই পথে কারো না কারো হাত ধরে তিনি উঠেন শেকড় থেকে শিখরে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হযে কল্যাণ বয়ে আনাটাই নারীদের জীবনযুদ্ধ। কখনও কন্যা, কখনও বোন, কখনও মা, কখনও স্ত্রী হয়ে পাড়ি দিতে হয় মহাসমুদ্র সম পথ।
সেখানে থাকে নানান বাধা বিপত্তি, বিপদ। থাকে যন্ত্রণা, অভাব, কষ্ট, ব্যথা, আঘাত, শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার। এখানেই শেষ নয়, আজকের বিশ্বের দিকে তাকালে নিজেকে অসহায় মনে হয়। কর্মস্থলে অগ্রাধিকার পাওয়া নারীরা আবার ঘৃণিত হয় নিজ আপনের কাছে। অত্যাচারিত হয় পথেঘাটে, রাস্তায়,পাবলিক বাসে।সম্মান হানী ঘটে তার ইজ্জতের। বৈবাহিক জীবনে অনেকে মোকাবিলা করেন অকারণ যন্ত্রণা অথবা কারণ বশত বাধ্যতা। বাংলা সাহিত্যের বরপুত্র হুমায়ুন আহমেদ বলেন, ‘অসংখ্য কষ্ট, যন্ত্রণা পেয়েও মেয়েরা মায়ার টানে একটা ভালোবাসা, একটা সম্পর্ক,একটা সংসার টিকিয়ে রাখতে চায়। এজন্যই মেয়েরা মায়াবতি। আর মায়াবতির কোনো পুরুষবাচক শব্দ নেই।’ যে সমাজব্যবস্থায় নারীদের সম্মান দেয়া হয় না সে সমাজব্যবস্থা শিক্ষাহীন এবং এতিমের মতো। এখানে যারা নারীদের সাথী হয়ে থাকেন তারাই কেবল দেখেন একজন নারীর যুদ্ধ। আর সাক্ষী হয়ে থাকেন একটি করুণ আত্মজীবনীর। নারীদেরকে সম্মান দেয়, শ্রদ্ধা করেন এমন মানুষদেরকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। জীবনকে তারা অন্তর দিয়ে অনুধাবন করেন বলেই আজ তারা বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভ‚মিকা পালন করেন নারীদের সমান অধিকার দিয়ে। চলার পথে বাঁধা বিপত্তি আসবেই।তাই বলে দমে যাবার সময় নয় এখন, হেরে যাবার সময় নয়। প্রিয় নারী বন্ধুরা, ভালো থাকুন, ভালো রাখুন নিজেকে, পরিবারকে এবং সমাজকে।