ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা হেপাটাইটিস নীরব ঘাতক

4

নিজস্ব প্রতিবেদক

নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস। এ ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে সারা বিশ্বে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে সংক্রমিত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই জানেন না যে তার শরীরে এ ভাইরাস আছে। দূষিত রক্ত, সিরিঞ্জ, মা থেকে সন্তানের দেহে এবং অনৈতিক মেলামেশার কারণে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২১ উপলক্ষে ‘হেপাটাইটিস নিয়ে অপেক্ষা নয়’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। লিভার কেয়ার গ্রুপের উদ্যোগে ২৮ জুলাই রাতে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক এমএ ফয়েজ।
অধ্যাপক এমএ ফয়েজ বলেন, হেপাটাইটিস শনাক্ত, চিকিৎসা ও প্রতিরোধে লিভার কেয়ার গ্রুপের কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে বলে আমার বিশ্বাস। হেপাটাইটিস নির্মূলে বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি নির্মূল করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, হেপাটাইটিস মূলত যকৃতের প্রদাহকে বোঝায়। এর মূল কারণ ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ৫টি স্বীকৃত হেপাটাইটিস ভাইরাস। বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালন করা হয়। তাই এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, হেপাটাইটিস নির্মূলে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ চলমান আছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম স¤প্রসারণ, হেপাটাইটিস শনাক্তে প্রয়োজনীয় কিট/যন্ত্রপাতি সহজীকরণ, হেপাটাইটিস চিকিৎসার খরচ কমাতে নানামুখি উদ্যোগ গ্রহণ অন্যতম। চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আকতার বলেন, গর্ভবতী মায়েদের যথাযথ হেপাটাইটিস স্ক্রিনিং ও সতর্কতা জরুরি। অন্যথায় মা ও অনাগত সন্তানের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, উপজেলা থেকে নগর- সব পর্যায়ে হেপাটাইটিস স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা সহজলভ্য করা এখন সময়ের দাবি। তাহলে এ রোগের চিকিৎসা শহর কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ থাকবে না।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিভার কেয়ার গ্রুপের সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) লিভার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। সংগঠনের সহসভাপতি ও ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফসিউল আলমের সভাপতিত্বে ও লিভার কেয়ার গ্রুপের সাধারণ সাম্পাদক ও চমেকের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তারেক শামশের সঞ্চালনায় আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুল হক খান, বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, ব্র্যাক’র কম্যুনিকেবল ডিজিজেস ডিরেক্টর মো. আকরামুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ ও চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের সভাপতি রোটারিয়ান অধ্যাপক জাহাঙ্গীর চৌধুরী। ধন্যবাদ জানান বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও লিভার কেয়ার গ্রুপের কার্যকরী সদস্য এসএম মাহমুদুল হক পল্লব।