ভারী যান নিয়ন্ত্রণে বসবে বার

18

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহদ্দারহাটে এমএ মান্নান ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পে একটি পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায় ফ্লাইওভারের একপাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহনগুলো নিচ দিয়ে চলাচল করায় তৈরি হয়েছে যানজট। এছাড়াও আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয় ও পথচারীদের মাঝে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্লাইওভারে কোন ফাটল দেখা যায়নি, শীঘ্রই যান চলবে। গতকাল বুধবার বহদ্দারহাট এলাকায় গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।
এদিকে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা সিটি কর্পোরেশনকে ভারী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও সিটি কর্পোরেশন তা গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন বলছে, ভারী যান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। যদি ভারী যান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আসত, তবে নির্মাণের সময় বার বসিয়ে দিতেন তারা।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে র‌্যাম্পটির নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ডিপিএম) কনসালটেন্টস লিমিটেডের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান। এসময় বিশেষজ্ঞরা সাংবাদিকদের বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাটলের মতো যেসব ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তা মূলত কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট। আর সাটারিংয়ের জন্য দেওয়া ফোম বের হয়ে গেছে। অধিকতর নিশ্চিত হতে কারিগরি পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে ক্র্যাক হওয়া স্থানটি কেটে পিলারের ভেতরে কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা তাও দেখা হবে। তবে এটা বলতে পারি, ফ্লাইওভারে কোনো ফাটল নেই। হালকা যান চলাচলের জন্য ফ্লাইওভার এখনই খুলে দেওয়া যেতে পারে। তবে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে কিছু কারিগরি পরীক্ষা করা হবে।
জানা গেছে, গত সোমবার রাত ১০টা থেকে ফ্লাইওভারে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে যান চলাচল শুরু হলে ফ্লাইওভারের দুই পাশের সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে আতঙ্কের পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, এমএ মান্নান ফ্লাইওভারের চান্দগাঁওমুখি র‌্যাম্পের যে পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে সেখানে মানুষের ভিড়। আরাকান সড়কমুখি র‌্যাম্পে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। যার কারণে সড়কে যান চলাচলে চাপ তৈরি হয়েছে। বুধবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির সংখ্যাও বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
ফ্লাইওভারে ফাটলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। স্থানীয় এক হোটেল কর্মচারী মো. আবু সালেক বলেন, সোমবার রাত থেকে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে বা পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছেন না। সকলের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোন সময় কি হয় একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তাই পুলিশের কথামত সকলে নিরাপদ দূরত্বে থেকে চলাচল করছেন।
অফিসগামী মো. এজাজ জানান, প্রতিদিনের মত রাহাত্তারপুল থেকে বায়েজিদ যাব বলে সকাল ৯টায় বের হয়েছি। এখন সাড়ে ১০টা বাজছে। গাড়ির যে এত চাপ বাড়ছে, তা বলা মুশকিল। শুধু যানজটের কারণে অফিসের সময়টা এখানেই চলে গেল। রাস্তায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে সিগন্যালে আটকে দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। তাই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।
চান্দগাঁও এলাকার দায়িত্বরত ট্রাফিক পরিদর্শক আশিষ কুমার পাল পূর্বদেশকে জানান, ফ্লাইওভারে ফাটলকে কেন্দ্র করে গত দুইদিন ধরে বহদ্দারহাট এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছে। ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়া গাড়িগুলো নিচের সড়ক ব্যবহার করাতে যানজট তৈরি হয়। তবে আগে তিনজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করলেও এখন অতিরিক্ত আরও দুইজন যুক্ত করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রæত সময়ে যাতে যানবাহন পাস করে দেয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলছে বিধায় ট্রাফিক সদস্যরা মুরাদপুর, ষোলশহর ও বায়েজিদ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। এতে বহদ্দারহাট এলাকার দিকে কিছুটা সংকট দেখা দেয়। তারপরও আমরা আমাদের সাধ্যমত ভোগান্তি লাঘবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের সিনিয়র ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার হাসমত উল্লাহ পূর্বদেশকে বলেন, আমরা আজকে (বুধবার) ওই এলাকায় ভিজিট করতে গিয়েছি। সেখানে ফাটল যেটি বলা হচ্ছে তা আদৌ ফাটল নয়। আসলে ওটা ছিল একটা জয়েন্ট। ভারী যান চলাচলের কারণে এটি স্পষ্ট হয়েছে। তারপরও আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হালকা যান চলাচলের পরামর্শ দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ফ্লাইওভারটি নির্মাণের পর আমরা সিটি কর্পোরেশনকে জানিয়েছিলাম যাতে ভারী কোন যান চলাচল করতে দেয়া না হয়। কিন্তু তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তখন যদি তারা একটি বার করে দিত, আজকে এ অবস্থা দেখতে হত না।
তবে পরামর্শের বিষয়টি সঠিক নয় জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে ভারী যান চলাচল করতে পারবে না এমন কোন পরামর্শ দেয়নি। যদি তখন থেকে ভারী যানে নিষেধাজ্ঞা থাকতো তবে ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় তারা বার দিয়ে দিতেন। এখন যখন একটা বিষয় উঠে আসছে, আমরা বার দেয়ার জন্য কাজ শুরু করেছি। আগামী দু-একদিনের মধ্যে বার স্থাপিত হবে। ফলে ওই র‌্যাম্প দিয়ে আর ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।