ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করুন

23

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন নগর পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজকদের কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে পুলিশ সমস্ত শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করা হবে।
শারদীয়ার প্রাক্কালে গতকাল রবিবার নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনের মাল্টিপারপাস শেডে পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের মহানগর কমিটির সভাপতি লায়ন আশীষ ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এমএ মাসুদ, সিএমপি পশ্চিম জোনের উপ-কমিশনার জসীম উদ্দিন, দক্ষিণ জোনের মোস্তাফিজুর রহমান, সিএমপির ট্রাফিক পশ্চিম জোনের উপকমিশনার তারেক আহম্মেদ, সিটি করপোরেশন, সিভিল সার্জন, র‌্যাব, আনসার, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন থানা কমিটির নেতারা নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশীষ ভট্টাচার্য বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। একটি মহল চাইবে শারদীয় দুর্গোৎসবে আঘাত এনে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে।
জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, সমাজে রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ও সচেতন মানুষ যারা আছেন, সবার প্রতি আহŸান জানাচ্ছি। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান আমরা যেভাবে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পেরেছি, সেভাবে শারদীয় দুর্গোৎসবও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবো।
সভায় জানানো হয়, নগরীতে এ বছর দুইশ’ ৭৮টি মন্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে একশ’ ২৬টি মন্ডপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার প্রতিটি পূজা মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নারী-পুরুষদের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা এবং নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রাখাসহ বেশকিছু নিরপত্তামূলক পরামর্শ দেন। পূজাকে ঘিরে যে কোনও ধরনের গুজব নিয়ে সতর্ক থাকারও আহবান জানানো হয় সভায়।
প্রতি পূজামন্ডপকে ঘিরে করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার মুরুব্বি, সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের লোকদের নিয়ে ‘স¤প্রীতি কমিটি’ গঠন করা হবে জানিয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে পুলিশ।
পরে সাংবাদিকেদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পূজায় কোনও হুমকি নেই। আমরা সবসময় ভালোর প্রত্যাশা করি। তবে খারাপের জন্য যথাসাধ্য প্রস্তুতি রাখি। কোনও ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি হলে সেটা কীভাবে মোকাবিলা করব, সে প্রস্তুতি আমাদের আছে এবং থাকবে। আমাদের কুইক রেসপন্স টিম সবসময় প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বম্ব ডিসপোজাল টিমও আছে। খারাপ কিছর আশঙ্কা না থাকলেও অভিজ্ঞতা থেকে যে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা প্রয়োজন, তার সবই নেয়া হবে।
সভায় আগামী ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে নিরাপত্তার অজুহাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে বিসর্জনের স্থান না সরানোর আহবান জানান পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।
তারা বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকা আধুনিকায়ন করার সময় বিসর্জনের জন্য একশ’ ২০ ফুট চওড়া জায়গা করা হয়েছে। যেখানে আগের বছরগুলোতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে।
পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, পতেঙ্গার বদলে রাসমনি ঘাটে বিসর্জন স্থান নির্ধারণ করা হলে, তাতে প্রতিমা বিসর্জনে অনেক সময় লেগে যাবে। এছাড়া সেখানে কাদার আধিক্যের কারণে বিসর্জনে সমস্যা সৃষ্টি হবে।
বিসর্জনের বিষয়টি ‘আবেগের’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পতেঙ্গা থেকে প্রতিমা নিরঞ্জনের স্থান সরানো হলেও অনেকের মনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন, তাদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে সুন্দর সমাধান বের করার চেষ্টা করা হবে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির বা হতাশার কোনও কারণ নেই।