ব্রিজ নয় যেন মরণফাঁদ

7

পাহাড়ে রাস্তা ঘাট ও ব্রিজ কালভার্ট উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাট। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে ব্যাপক বরাদ্দ দিয়ে আসছে। এক কথায় পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। প্রতিনিয়ত উন্নয়নের কাজে লুটপাট করে আসছে একটি প্রভাবশালী মহল। তার জলন্ত দৃশ্য বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের একরাম পাড়া ৮নং ওয়ার্ড এ নির্মিত এ ব্রিজটি। জানা যায়, আমতলী ইউনিয়ন একরাম পাড়া ৮নং ওয়ার্ডে নির্মিত ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এ ব্রিজটি। ওই সময়ে ঠিকাদার হিসেবে কাজটি সম্পন্ন করেন বাঘাইছড়ি উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মো. শাহরিয়ার হোসেনের বড় ভাই মো আবুল কাসেম। আর কাজটি তদারকি করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। স্থানীয়ভাবে দেখবাল করার কথা তৎকালিন আমতলী ইউপি চেয়ারম্যান। স্থানীয়বাসিন্দারা যায়, নামে মাত্র ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। একটি ব্রিজ নির্মাণ করতে যে সকল মালামাল ব্যবহার করার কথা তা সঠিক ভাবে দেওয়া হয়নি। ব্রিজটি নির্মাণে ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছে। একটি ব্রিজ যদি ৬-৭ বছরে ভেঙে যায় তাহলে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কেন ব্রিজ নির্মাণ করে। আমাদের দাবি ব্রিজ নির্মাণের সাথে যারা জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হউক। বর্তমানে ব্রিজটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। আমতলী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. রাসেল চৌধুরী জানান, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস এসব ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করে থাকেন। সে সুবাদে ৬-৭ বছর আগে ব্রিজ নির্মাণের কাজ করেছেন উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শাহরিয়ার হোসেনের বড় ভাই ঠিকাদার মো. আবুল কাসেম। একটি ব্রিজ নির্মাণে ৩ সুতা রড ও তিন ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে যা হয় তাই হয়েছে। ৫-৭ বছর যেতে না যেতেই ব্রিজ অকেজো হয়ে পড়েছে। এধরনের লুটপাট থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে চাই। আমতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মো. রুবেল আলম বলেন, ব্রিজটি নির্মাণে যে সকল সরঞ্জাম দেওয়ার কথা ছিল তার কিছুই ব্যবহার করা হয়নি। ব্রিজটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট করা হয়েছে। ব্রিজটির যে পরিণতি হয়েছে তাতে যে কোন সময় বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। ব্রিজটি তদন্ত করতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ব্রিজটি ভেঙে পড়ার কারণে লংগদু উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ভোগান্তির স্বীকার আমতলী ও লংগদুবাসী। এধরনের উন্নয়নে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে কতিপয় ঠিকাদার মহল। বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি দীলিপ কুমার দাশ জানান, প্রধানমন্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। একটি ব্রিজ নির্মাণে যদি এধরনের অনিয়ম দুর্নীতি হয় তাহলে আমরা যাব কোথায়। যারা উন্নয়নের নামে ব্রিজ নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কঠোর হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বাঘাইছড়ি উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ঠিকাদার মো. আবুল কাসেম জানান, আমতলী ব্রিজ ভেঙে পড়েছে বিষয়টি আমি জেনেছি। সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি ব্যাপারে ঠিকাদারকে ডাকা হয়েছে। দেখি তাকে দিয়ে ব্রিজের কাজ করানো যায় কিনা। সে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে ঠিকাাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৎকালিন ব্রিজ নির্মাণ ঠিকাদার আবুল কাসেম ব্রিজ নির্মাণের কথা অস্বীকার করে জানান, কোন সালে আমতলী ইউনিয়নে ব্রিজ নির্মাণ করেছি তা খতিয়ে দেখতে হবে। এখন বিষয়টি সঠিক মনে পড়ছে না।