ব্যাপক আমদানিতে দামবৃদ্ধির শঙ্কা নেই

26

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আমদানিকারকরা গত দুই অর্থ বছরের তুলনায় এবার বেশি ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছেন। এরই মধ্যে ছোলা, খেজুর, মসুর ডালসহ বেশ কয়েকটি রমজানের পণ্য বাজারে নিয়ে এসেছেন। যার ফলে দাম অনেকটা হাতের নাগালে রয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য সুখবর বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, রমজানকে কেন্দ্র করে বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছরে খাতুনগঞ্জ বাজারে বেচাবিক্রি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। তাই দাম বাড়ার কোন সুযোগ নেই।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে দাম সহনীয় থাকায় ও আমদানি বেশি হওয়ায় এবার রোজার পণ্যের দামে অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা নেই।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে রোজা শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে রমজানের অনেক পণ্য বন্দর থেকে খালাস হয়েছে। আরও কিছু পণ্য এখনও খালাস চলছে বলে জানিয়েছে বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ স্টেশন।
চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থ বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত খেজুর আমদানি হয়েছে ৭৬ হাজার ৮৩৯ দশমিক ২৮২ টন। যার মধ্যে রয়েছে কাঁচা খেজুর, পাকা খেজুর এবং শুকনো খেজুর। যা ২০১৯-২০ অর্থ বছরে হয়েছিল ৩৯ হাজার ৭৮৯ টন।
করোনাকালীন আরব দেশসমূহে লকডাউন থাকায় খেজুর আমদানি বেশি সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আমদানিকৃত দেশগুলো হল- আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক ও মিশর।
চলতি অর্থ বছরের মার্চ পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ২৯৬ টন। তবে গত অর্থ বছরে ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭৭১ টন আমদানি হয়েছিল। এসব আমদানি করা হয় অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মিয়ানমার ও রাশিয়া থেকে। মশুর ডাল আমদানি হয়েছে চলতি অর্থ বছরের মার্চ পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩৯৯ দশমিক ৪৭ টন। গত অর্থ বছরে হয়েছিল ৫ লক্ষ ২০ হাজার ১৯৬ টন। আমদানি করা হয় কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়া থেকে।
এছাড়া চলতি অর্থ বছরে আপেল আমদানি হয়েছে ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৫১৫ টন। গত অর্থ বছরে হয়েছিল ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৭৬ টন। আর আমদানি হয়েছে চীন, মিশর, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকা থেকে। কমলা আমদানি হয়েছে চলতি অর্থ বছরে ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৫১০ দশমিক ৭৮ টন। গত অর্থ বছরে আমদানি হয়েছিল ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪৩১ টন। আমদানি হয়েছে চীন, আফ্রিকা ও মিশর থেকে।
চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন দৈনিক পূর্বদেশকে বলেন, দেশে লকডাউন চললেও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাড়পত্র ইস্যু করছি। যাতে দ্রæত ভোগ্যপণ্য বাজারে চলে যেতে পারে। জরুরি সেবার অংশ হিসেবে বন্দর থেকে আমরা দ্রæত ছাড় করে দিচ্ছি। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।
এদিকে ব্যাপক মজুদের পরিস্থিতিতে এরই মধ্যে আমদানি পণ্যের বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এসব পণ্যের বেচাকেনা চলছে।
খাতুনগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রোজায় যেসব পণ্য বেশি চলে, তার মধ্যে সয়াবিন, পাম তেল, ছোলা ও খেজুর- এই চার পণ্যের চাহিদা আমদানির মাধ্যমেই মেটাতে হয়।
এদিকে চিনি উৎপাদিত হয় বছরে ৬৮ থেকে ৭০ হাজার টন, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। একইভাবে মসুর ও মটর ডালও চাহিদার চেয়ে অনেক কম উৎপাদিত হয়। সেজন্য তিনটি পণ্যই আমদানি করতে হয়। এসব পণ্যের দাম কত হবে, তা নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা এবং চাহিদার তুলনায় মজুদের ওপর।
আমদানিকারক বিএসএম গ্রূপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী দৈনিক পূর্বদেশকে জানান, প্রতিবছরের মত এ বছরও আমরা ছোলা, ডালসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেছি। যার মধ্যে ১৮ থেকে ১৯ হাজার টন ছোলা ও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন ডাল আমদানি করেছি। বর্তমানে অনেক পণ্য চলে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রোজার অন্যান্য পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কম। তাই নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।
অন্যদিকে পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ে অস্ট্রেলিয়ান ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা এবং মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬৪ টাকায়, খেজুর মানভেদে কেজি ৮০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়, আমদানিকৃত মশুর ডাল কেজি ৬২ থেকে ৬৩ টাকায়, দেশি মশুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, মটর ডাল বরাবরের মত কেজি ৩৮ টাকায়, খেসারী কেজি ৬৪ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা দোকান মালিক সমিতির সিনিয়র সভাপতি ও তৈয়্যবিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সোলায়মান বাদশা জানান, রমজানের পণ্য খাতুনগঞ্জ বাজারে সয়লাব হলেও বেচাকেনা নেই। লকডাউন উপলক্ষে ব্যাংকিং সময় ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হওয়ায় ওই সময় কিছুটা লেনদেন ও বেচাবিক্রি হয়। বাকি সময় বেকার কাটাতে হচ্ছে। বিগত বছর এ সময়ে খুব ভালই বেচাবিক্রি হয়েছিল।
খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে সিটি পাম গত সপ্তাহের তুলনায় ৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ (৩৭.৩২ কেজি) ৩ হাজার ৮৯০ টাকা, এস.আলম ৩ হাজার ৮০০ টাকা। পাইকারিতে সয়াবিন তেল ১৫০ টাকা কমে প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে সিটি ৪ হাজার ৫৫০ টাকা, এস.আলম ৪ হাজার ৪৩৫ টাকা। এছাড়া মণপ্রতি চিনি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৭৫ থেকে ৮০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের তেল-চিনি ব্যবসায়ী এমদাদুল হক রায়হান জানান, তেল ও চিনির দাম কিছুটা কমেছে। সামনে আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পড়ে গেলে দেশিয় বাজারেও দাম কমে আসবে।