বোরো আবাদ বাড়াতে চায় কৃষি বিভাগ

12

আসহাব আরমান

চ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধানের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। আগামি বোরো মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় ৬৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ বছর জেলায় আরও ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বাড়াতে চায় চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হবে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। নানা কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ায় ধানের উৎপাদন বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামি বোরো মৌসুমে জেলায় হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের মিলিয়ে ৬৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে উফশী জাতের আবাদ আরও বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। এ লক্ষ্যে জেলার ১৫ উপজেলায় ৩০ হাজার কৃষককে ১৫০ মেট্রিক টন ধানবীজ ও ৬০০ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে ব্রী-ধান-৬৭ জাত ৩০ মেট্রিক টন, ব্রী-ধান ৭৮ জাত ২০ মেট্রিক টন, ব্রী-ধান ৮৯ জাত ৫৫ মেট্রিক টন, ব্রী-ধান ৯২ জাত ২৫ মেট্রিক টন, ব্রী-ধান ১০০ জাত ১০ মেট্রিক টন ও বিনাধান-১০ জাত ১০ মেট্রিক টন।
অন্যদিকে সারের মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন করে ডিএপি ও এমওপি সার মোট ৬০০ মেট্রিক টন। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে প্রায় সাড়ে ২৯ লাখ কৃষক প্রণোদনা পাবেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে। গম ও ভোজ্য তেলের আমদানি কমেছে এসেছে। গমের আমদানি কমে আসার প্রভাব পড়বে চালের উপর। এতে চাল আমদানি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে কৃষিকাজে ব্যবহৃত সারের সিংহভাগই আমদানি করা হয় রাশিয়া থেকে। কিন্তু রাশিয়ার উপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় বাংলাদেশে সারের দাম বেড়েছে। ফলে কৃষক পর্যায়ে ধানের আবাদ কমিয়ে নিয়ে আসার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তাই আবাদ বাড়াতে কৃষকদের জন্য প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার ১৫ উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রতি উপজেলায় গড়ে দুই হাজার কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।
চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. ওমর ফারুক পূর্বদেশকে বলেন, দেশের সার্বিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি মৌসুমে প্রকল্প হতে নেয় কৃষি বিভাগ। গত মৌসুমে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় তেল জাতীয় শস্যের আবাদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ফলে চট্টগ্রাম জেলায় উল্লেখ্যযোগ্য হারে তেলজাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা এখনও চলমান আছে। তবে চলতি বছর বোরো আবাদ বাড়ানোর ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি বিভাগ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে। তাই বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৫ উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে। এসব কৃষকের মাঝে ধানবীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হবে। আমরা আশা করছি এতে করে চট্টগ্রাম জেলায় আরও ১০ হাজার হেক্টর বোরো আবাদ বৃদ্ধি পাবে।