বৈলতলী ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

4

উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়ন পরিষদের মাঠের একটি অংশ টিনের ঘেরা দিয়ে দখল করে ছিলেন স্থানীয় আবু বক্কর ও ইব্রাহিম নামের ব্যক্তিদ্বয়। গত ৩১ মার্চের বৈঠকে ১ এপ্রিল ঘেরা-বেড়া সরানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিন। নির্দেশনা না মানায় গত ৬ এপ্রিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিন উপস্থিত হয়ে অবৈধ ঘেরা-বেড়া উচ্ছেদ করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর-পশ্চিমাংশে টিনের ঘেরা দিয়ে একটি অংশ দখল করে নিয়েছিল স্থানীয় প্রভাবশালী আবু বক্কর ও ইব্রাহিম। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার মোস্তফা চৌধুরী দুলাল বলেছেন, কিছুদিন পূর্বে পরিষদের জায়াগাটি স্থানীয় আবু বক্কর, মো. ইব্রাহিম নামে ব্যক্তিদ্বয় দখল করার চেষ্টা করলে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। কিছুদিন তারা নিরব থাকলেও হঠাৎ করে ১০-১৫ দিন পূর্বে পূর্ণরায় টিনের ঘেরা দিয়ে পরিষদের মাঠের একটি অংশ দখল করে নেয়। ঘেরা দেয়ার কারণে সড়কের যাত্রী ছাউনি তাদের ঘেরার ভেতর চলে যায়। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে অবস্থিত শহীদ মিনারে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। অথচ এ জায়গাটি ২০০৭ সালে দিয়ারা জরিপে পরিষদের নামে ৪নং খতিয়ানে জরিপ হয়। এ ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার ভূমির কার্যালয় থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দেয়া হয়। গত ৩১ মার্চ উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমির কার্যালয়ে এ বিষয়ে শুনানীর শেষে গত ১ এপ্রিল পরিষদের জায়গায় অবৈধ টিনের ঘেরা-বেড়া সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু নির্দেশের ৬ দিন অতিবাহিত হলেও আবু বক্কর ও ইব্রাহিম তাদের দেয়া ঘেরা-বেড়া সরান নাই। ফলে গত ৬ এপ্রিল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে পরিষদের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। এ সময় তার সাথে চন্দনাইশ থানা পুলিশ, চেয়ারম্যান আনোয়ার মোস্তফা চৌধুরী দুলাল, ইউপি সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে আবু বক্কর বলেছেন, আর.এস খতিয়ানমূলে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে তারা দখল করেছেন। দিয়ারা জরিপে পরিষদের নাম আসলে তিনি কোন ধরণের আদালতে মামলা করেন নাই বলে জানান। চেয়ারম্যান আনোয়ার মোস্তফা চৌধুরী দুলাল প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে চন্দনাইশ প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।