বেসরকারি হাসপাতাল সিআরবি’র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি

10

 

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরী। ঢাকার পরেই চট্টগ্রামের স্থান। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর থাকায় দেশের অন্য যেকোন এলাকার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয় সরকারের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তৎমধ্যে কর্ণফুলি নদীতে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ, দোহাজারী টু কক্সবাজার রেল লাইন সম্প্রসারণ। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পসহ চট্টগ্রামের উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান ভুলবে না চট্টগ্রামবাসী। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ঢাকার তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই। সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে চট্টগ্রামে হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রামর সর্বস্তরের জনগণ কখনো দ্বিমত পোষণ করে না।
চট্টগ্রামে মানসম্পন্ন হাসপাতাল বলতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকেই ধরা হয়। বহু বেসরকারি এবং প্রাইভেট হাসপাতাল চট্টগ্রামে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চট্টগ্রামের কোন প্রাইভেট হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতারের ধারে কাছেও যেতে পারেনি। প্রাইভেট হাসপাতালগুলো সেবার নামে রোগী ও রোগীর স্বজনদের কাছ হতে গলাকাটা বিলই আদায় করে চলেছে মাত্র। প্রকৃত পক্ষে চট্টগ্রামের প্রায় সকল প্রাইভেট হাসপাতাল ডাক্তার ও চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মুখাপেক্ষি।
এমতাবস্থায় চট্টগ্রামে বিশেষায়িত মানসম্পন্ন প্রাইভেট হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রাম কিংবা উত্তর চট্টগ্রামে মহানগরীর সাথে লাগোয়া স্থানে সরকারি বহু এমন জায়গা রয়েছে যাতে হাসপাতাল স্থাপন করা সহজ। মহানগরীর আশপাশেও অনেক উপযুক্ত জায়গা রয়েছে যাতে হাসপাতাল স্থাপন করা সম্ভব। কিন্তু রেলওয়ের জায়গা সিআরবিতে হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। চট্টগ্রামে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে যেসব স্থান রয়েছে তার মধ্যে সিআরবি অন্যতম। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পহেলা বৈশাখসহ জাতীয় বহু উৎসব পালন করে চট্টগ্রামবাসী। সিআরবি বর্তমানে মহানগরীর ভেতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জাতীয় উৎসব পালনের সবচেয়ে নিরাপদ একটি স্থান। সিআরবিতে অনুষ্ঠান পালিত হলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে যানজট সৃষ্টি হয় না। তাছাড়া সিআরবি সংস্কৃতিসেবী এবং বিনোদনকামী জনগণের অন্যতম প্রধান আরাধ্য জায়গা। এখানে সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিলে সিআরবি’র শতবছরের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হতে বাধ্য। চট্টগ্রামের বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠন ও বিশিষ্টজনদের যে প্রতিবাদ চলছে তা কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয়। তাই চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণের প্রতিবাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন বাতিল করে চট্টগ্রামের অন্যকোন সুবিধাজনক স্থানে উক্ত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দেবেন এমন আশা চট্টগ্রামবাসীর। সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণের বিপক্ষে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ। তাই সরকারের উচিৎ বিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতালের নির্মাণ বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করা। তবে সিআরবি’র ঐতিহ্য এবং পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে পুঁজি করে লালখান বাজার থেকে টাইগারপাস এলিভেটেড এক্সপ্রেক্সওয়ে নির্মাণের বিরোধিতা সিআরবি’র আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার শামিল। আশা করি সরকার সিআরবি’র বিষয়ে জনগণের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে।