বিশ্ব ব্যাংকের তহবিল চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

9

নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং জলবায়ু সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্ব ব্যাংকের বিশেষ তহবিল চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রবিবার বিকালে ঢাকা সফররত বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) আনা বেয়ার্দ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী এ আহবান জানান।
জাতীয় সংসদ ভবনে এ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সাক্ষাতের বিষয়ে ব্রিফ করেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ব ব্যাংককে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনারা (ডব্লিউবি) বাংলাদেশের নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ তহবিল দিতে পারেন। বিশেষ তহবিলটি নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করবে’।” খবর বিডিনিউজ’র
নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের পদক্ষেপ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই বাংলাদেশে কোনো লিঙ্গ বৈষম্য নেই।”
আনা বেয়ার্দে এক দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় আসেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে আনা বেয়ার্দে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বাসস জানায়, বিশ্ব ব্যাংকের এমডির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীরা এখন কৃষি থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও বিচার বিভাগ পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করছে। তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে জনগণের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে বলে এটি সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে কাজ করছে। তার সরকার নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা সংক্রান্ত যে কোনো প্রকল্প বা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে। টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ অন্যতম অগ্রপথিক।
“জলবায়ু পরিবর্তন এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা প্রকল্পের জন্য বিশ্ব ব্যাংক আমাদেরকে রেয়াতি হারে আরও ঋণ দিতে পারে।” বিশ্ব ব্যাংকের এমডি বেয়ার্দে বাংলাদেশের সামষ্টিক ও ক্ষুদ্র অর্থনীতির সংস্কারের উপর জোর দেন।
তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে সংস্কারে সহায়তা করছি এবং সংস্কার ত্বরান্বিত করার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।” সংস্কার কার্যক্রমে ভালো করায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে বেয়ার্দে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলেই বাংলাদেশ নতুন তহবিল পাবে।” তিনি প্রকল্পের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নেও গতিশীলতা আনার আহবান জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।