বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত

23

পূর্বদেশ ডেস্ক

ইউক্রেন-রুশ যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর বেশিরভাগ দেশে খাবার এবং ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। বিক্ষুব্ধরা রাস্তায় নেমেছেন, করছেন বিক্ষোভ। বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে অনেক দেশে। যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত। একটা হামলা সারাবিশ্বের অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব বিস্তার করছে, তা এখানে তুলে ধরা হল।
দেশে দেশে জিনিসপত্রের দাম মারাত্মক বৃদ্ধি পেয়েছে। রুশ হামলার ফলে জার্মানির মানুষ খুব ভুগছেন। জিনিসপত্রের দাম আচমকা অনেকটা বেড়ে গেছে। ১৯৮১ সালের পর চলতি বছরের মার্চে এত বেশি পরিমাণে মূল্যবৃদ্ধির সাক্ষী রইলো জার্মানি। দেশটি এখনো রাশিয়ার গ্যাস এবং তেলের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
প্রভাব পড়েছে সুদূর কেনিয়ায়। নাইরোবির একটি পেট্রল পাম্পে সারি বেঁধে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে জ্বালানির জন্য। জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সারা বিশ্বজুড়ে। খাবারের দাম বেড়েছে, খাবারের জোগানও কমেছে। কেনিয়ায় জাতিসংঘের দূত মার্টিন কিমানি নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। বিশ্বে বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া। রাশিয়া থেকে আমদানি নিষিদ্ধ করায় অনেক দেশে রুটির দাম বেড়ে গেছে। তুরস্কে সরবরাহে ঘাটতি দেখা গিয়েছে। ইউক্রেন সারা বিশ্বে প্রথম পাঁচটি গম উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় রয়েছে, কিন্তু যুদ্ধের ফলে কৃষ্ণসাগর সংলগ্ন বন্দর দিয়ে শস্য আমদানি করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
ইরাকে বাড়ছে দাম। বাগদাদের জামিলা মার্কেটে বস্তা বস্তা আটা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ইউক্রেনে রুশ হামলার পর ইরাকের বাজারে গমের দাম এখন আকাশছোঁয়া। সারা পৃথিবীর গম ব্যবসার প্রায় ৩০ শতাংশই রাশিয়া এবং ইউক্রেনের দখলে। ইরাক এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। তবে পুটিনের সমর্থনে পোস্টারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি এবং বিদ্যুতের দামেও প্রভাব পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে।
স¤প্রতি পেরুর রাজধানী লিমায় পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংঘর্ষ হয়েছে। খাবারের দামবৃদ্ধির কারণে বিক্ষোভ দেখান তারা। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরই খাবারের দাম অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।
চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেট্রোল, ডিজেলের মূল্য ২৫ শতাংশ বেড়ে যায় দেশটিতে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি, হাসপাতালে অপ্রতুল ওষুধ, সবমিলিয়ে রাজধানী কলম্বোয় রাষ্ট্রপতির দপ্তরের সামনে প্রতিবাদে অংশ নেন অসংখ্য মানুষ। জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে শ্রীলঙ্কা।
প্রভাব পড়েছে স্কটল্যান্ডেও। যুদ্ধের ফলে খাবার এবং তেলের দাম বেড়েছে স্কটল্যান্ডে। ব্রিটেনজুড়ে শ্রমিক সংগঠনগুলি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাচ্ছে। ব্রেক্সিটের ফলে এমনিতেই ব্রিটেনে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল।ইউক্রেনে রুশ হামলার ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।
যুক্তরাজ্য নিজেদের জাতীয় খাবার নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, বছরে প্রায় ৩৮ কোটি ‘ফিস অ্যান্ড চিপস’ খায় ব্রিটিশরা। কিন্তু রাশিয়া এবং ইউক্রেনের এই টালমাটাল পরিস্থিতির ফলে জোগানে টান পড়েছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়া থেকে মাছ, ভোজ্য তেল, জ্বালানি ইত্যাদি আসছে না, ফলে সবকিছুর দামই বাড়ছে। চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৬.২ শতাংশ। এখন তা আরো বেড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আমদানি করা খাদ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া। অন্য ক্ষেত্রেও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইউক্রেন রুশ যুদ্ধের ফলে কি নাইজেরিয়ার সুবিধা হবে? নাইজেরিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি স¤প্রতি দেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানা খুলেছেন। তিনি প্রচুর ক্রেতা পাবেন বলেই মনে করছেন।