‘বিশেষায়িত শাখার’ আওতায় আসছে নগরীর সব খাল-নালা

35

ওয়াসিম আহমেদ

খাল পরিষ্কারের পরও বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে না। তাই, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা এক নেটওয়ার্কে আনতে বিশেষায়িত শাখা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। নতুন অর্গানোগ্রামে শাখাটি অন্তর্ভুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চসিকের প্রকৌশল বিভাগের অধীনে ‘দুর্যোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা’ নামে শাখাটিতে ইতোমধ্যে পদায়ন ও কর্মকাÐ শুরু হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক পূর্বদেশকে বলেন, ‘সড়ক মেরামত ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কাজের মত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা। তাই একজন তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলীকে প্রধান করে শাখাটি সাজানো হয়েছে। ঢাকাতে আগে থেকে রয়েছে, তাদের অর্গানোগ্রামেও রয়েছে। আমাদের অর্গানোগ্রামে নেই, তাই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যেই কাজ শুরু করেছে দুর্যোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা শাখা।’
সিডিএ’র মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি নগরীর একমাত্র এবং সবচেয়ে বড় কৃত্রিম খাল খনন করছে সিটি করপোরেশন। প্রায় ১৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি হবে ৬৫ ফুট চওড়া। খালটির খনন কাজ শেষ হলে পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণ শুলকবহর, চান্দগাঁও, নাসিরাবাদ, মোহরা, প‚র্ব ও পশ্চিম ষোলশহর, বহদ্দারহাট, বাকলিয়া এবং চাক্তাই সংলগ্ন এলাকার মোট আটটি ওয়ার্ডের ১০ লাখ বাসিন্দা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে বলে কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা। প্রকল্পটির সাথে জলাবদ্ধতা-প্রবণ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রকল্পটির পরিচালক সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফরহাদুল আলমকে পরিবেশ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা শাখার প্রধান করা হয়েছে। তিনি পূর্বদেশকে বলেন, ‘২০২৪ সালের মধ্যে বাড়ইপাড়া খাল খনন সম্পন্ন হবে। সিডিএ’র জলাবদ্ধতা প্রকল্পও শেষের পথে। সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়া হলে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ অপেক্ষা করছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে সত্যিকারের সুফল মেলে না। তাই কর্তৃপক্ষ আলাদা একটি শাখা করে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করবো। যাতে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়।’
এ বিষয়ে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ কারণে নগরে শক্তিশালী ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরি করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ড্রেন ও সংশ্লিষ্ট খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে একটি টিমও দরকার। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে সুফল পাওয়া যায় না। তাই, প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সমন্বয়ে পরিবেশ ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করতে টিমটি তৈরি করা হয়েছে।’ এ ছাড়া সিডিএ’র জলাবদ্ধতা প্রকল্প শেষ হলে খালগুলো তো আমাদের মেইনটেনেন্স করতে হবে। এর জন্য আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন। এ শাখাটি তা নিয়ে কাজ করবে, যোগ করেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।