বিশৃঙ্খলাকারীদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

12

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাবেশে বিশৃঙ্খলা করা, একজন কর্মীকে মেরে গুরুতর আহত করা, সাবেক এমপিকে লাঞ্ছিতকারীদের চিহ্নিত করবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি। গত বুধবার কর্ণফুলী থানার মইজ্জারট্যাক এলাকায় সিডিএ আবাসিকে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশে এসব ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে জসিম উদ্দিন নামের এক নেতা গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
বুধবার বিএনপির সমাবেশে দুই দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। তাছাড়া মঞ্চে উপস্থিত আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের সাবেক এমপি সরোয়ার জামাল নিজামকে লাঞ্ছিত করে কিছু নেতা-কর্মী। সমাবেশ চলাকালে একাধিক বিএনপি নেতার বক্তব্যে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন উপস্থিত কয়েকজন নেতাসহ তাদের অনুসারীরা। সরোয়ার আলম নিজাম ও সাবেক সংসদ সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েলের বক্তব্যকালে সমাবেশে কিছু নেতা ও তাদের অনুসারীরা আশালিন উক্তি করেন। পরবর্তিতে সমাবেশ মঞ্চে সরোয়ার জামাল নিজামকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। কর্মীদের আক্রোশে পড়ে সরোয়ার নিজাম সমাবেশ শেষে আমীর খসরুর গাড়িতে আশ্রয় নেন। বিশাল সমাবেশ হলেও গুটিকয়েকজনের বিশৃঙ্খলার কারণে ক্ষুন্ন হয় বিএনপির ভাবমূর্তি। এ অবস্থায় দলের মধ্যে শৃঙ্খলা আনতে বিশৃঙ্খলাকারীদের খোঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ জেলা বিএনপি। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহŸায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে তো অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে ধরণের ব্যবস্থা উপযুক্ত সেটা নেয়া হবে।
এদিকে সমাবেশে আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি থাকা আনোয়ারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা আহত জসিম উদ্দিনের অবস্থা গুরুতর। মাথায় রক্ত জমাট হওয়ায় গতকাল অপারেশন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির একটি সূত্র। নিজ দলের কর্মীদের হাতে জসিম উদ্দিন আহত হলেও কারা ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয় দক্ষিণ জেলা বিএনপি। তবে দায়ীদের চিহ্নিত করার জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে দলটি। বিশৃঙ্খলকারীদের চিহ্নিত করা গেলে কয়েকজন নেতা বহিষ্কার হতে পারে এমনটা ধারণা দলটির একাংশের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান বলেন, জসিম উদ্দিন নামের যে ব্যক্তি আহত হয়েছেন সেটা মঞ্চের ঘটনা নয়, বাইরে এ ঘটনা ঘটেছে। কারা ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া মঞ্চের ঘটনাও তদন্ত করে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব। সংগঠনের শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যবস্থা তো নিতেই হবে।
দক্ষিণ জেলার একাধিক নেতার মতে, যুবদল কর্মী ফারুক, ছাত্রদল নেতা মনির, জাহেদ, রুবেল মূলত মঞ্চে বিশৃঙ্খলার নেতৃত্বে ছিলেন। সমাবেশে সরোয়ার জামাল নিজাম ও গাজী শাহজাহান জুয়েলের সাথে ঘটা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার নেতৃত্ব দেন তারাই। প্রিয় নেতার সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা দেখে সরোয়ার জামালের অনুসারী আনোয়ারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জসিম উদ্দিন এগিয়ে আসেন। এতে জসিমকে মেরে গুরুতর আহত করেন তারা। হামলায় অংশ নেয়া সবাই দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এসএম মামুন মিয়া ও লায়ন হেলাল উদ্দিনের অনুসারী বলে জানা যায়।