‘বিরোধ’ ভুলে এক মঞ্চে সুফিয়ান-এরশাদ উল্লাহ

56

একমঞ্চে দুজনের দেখা নেই দীর্ঘ একদশকেরও বেশি সময় ধরে। একই দল ও আদর্শের অনুসারী হলেও তাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্কের কারণে বরাবরই দুজন দুমেরুতে অবস্থান করছিলেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাতে দলীয় কর্মসূচিতে দুজনেই সরব থাকলেও তাদের মধ্যে কখনো বৈরীতার অবসান ঘটেনি। পরপর দুবার নির্বাচনে দুজনেই দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এরা হলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান এবং নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ। তবে এবার উপ-নির্বাচনকে ঘিরে মতবিরোধ ভুলে গতকাল একই মঞ্চে ওঠেছেন দুজন এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন।
মূলত ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই এরশাদ উল্লাহ ও আবু সুফিয়ানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। তৎকালীন নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। একই আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন আবু সুফিয়ানও। সেসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিলো আবু সুফিয়ানের। কিন্তু দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে মোরশেদ খান নিজের কাছের লোক হিসেবে এরশাদ উল্লাহকে সহযোগিতা করেছিলেন বলে গুঞ্জন রটে। এরপর থেকেই আবু সুফিয়ানের সাথে এরশাদ উল্লাহ ও মোরশেদ খানের বৈরীতা শুরু হয়। তখন থেকে এরশাদ উল্লাহ ও এম মোরশেদ খানের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে এম মোরশেদ খান, এরশাদ উল্লাহ ও আবু সুফিয়ান তিনজনই মনোনয়ন চেয়েছিলেন। আবু সুফিয়ানকে দল মনোনয়ন দিলে এরশাদ উল্লাহর সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকে।
অবশ্য বর্তমানে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থারও ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে নিজেদের দ্ব›দ্ব ভুলে সুফিয়ান-এরশাদ উল্লাহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন। গতকাল চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ (আংশিক) এলাকার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, শ্রমিকদল, মহিলাদল, কৃষকদলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী সমাবেশের আয়োজন করেন এরশাদ উল্লাহ। সমাবেশে চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ান, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্বে করেন এরশাদ উল্লাহ।
এ বিষয়ে এরশাদ উল্লাহ বলেন, যখন দলের স্বার্থ সামনে আসবে তখন দলীয় সিদ্ধান্তই মানতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত ভুল কিংবা শুদ্ধ হোক, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার জন্য কাজ করতেই হবে। ব্যক্তির চেয়েও দল গুরুত্বপূর্ণ। দলের অস্তিত্ব থাকলেই নেতৃত্বের বিষয় থাকবে। তাই দলের প্রার্থী ও দলীয় প্রতীকের পক্ষে সকলেরই মাঠে নামা উচিত।
নিজেদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই জানিয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহŸায়ক ও বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, বড় ভাই এরশাদ উল্লাহর সাথে আমার আদর্শিকভাবে কোনো বিরোধ নাই। উনি আমার বড় ভাই, আমি তার ছোট ভাই হিসেবে দীর্ঘ ৪০ বছর মাঠে-ময়দানে রাজনীতি করে আসছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা দু’জনই একসাথে কাজ করবো। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ, দ্বন্দ্ব, মান-অভিমান নিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
এরশাদ উল্লাহ’র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি’র সাবেক সহ-সভাপতি এম এ হাশেম রাজু বলেন, আজ (রোববার) আমরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে একটা মহামিলনমেলা করেছি। এখান থেকে নতুন উদ্যমে সবাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান কিংবা দলীয় কোনো নেতাকর্মীর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।