বিনামূল্যের বই বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে

59

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যে বিতরণের বই চট্টগ্রামের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর একটি দোকান থেকে বেশকিছু বই উদ্ধারের পর পুলিশ বলছে, একশ্রেণির অসাধু শিক্ষক ও কর্মচারীর মাধ্যমে এসব বই চলে আসছে খোলা বাজারে। বই দোকানিরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইলিয়াছ খান জানান, গত রবিবার রাতে আন্দরকিল্লা এলাকায় ‘প্রকাশ বিচিত্রা’ নামের একটি বইয়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির ২৮৩টি বই উদ্ধার এবং দোকান মালিকের ভাই স্নেহাশীষ তালুকদার ওরফে জুয়েলকে (২৮) আটক করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বই ব্যবসায়ীরা কিছু শিক্ষক, কর্মচারীর কাছ থেকে এসব বই সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির জন্য। আমাদের ধারণা কিছু অসাধু শিক্ষক-কর্মচারী স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি দেখিয়ে বইগুলো সংগ্রহ করার পর খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়।বইগুলো কিভাবে কাদের কাছ থেকে আনা হয় সে ব্যাপারে গ্রেপ্তার জুয়েলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। খবর বিডিনিউজের
বরাবরের মতো এবারও ইংরেজি বছরের প্রথম দিন সারাদেশে একযোগে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিনামূল্যের নতুন বই। গত ২৪ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ১ জানুয়ারি ঢাকার আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বই বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছিলেন, এবছর চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ শিক্ষার্থীর হাতে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ টি বই তুলে দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই বিনামূল্যের বই চলে এসেছে খোলা বাজারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দরকিল্লা এলাকার কয়েকজন বই দোকানি বলেছেন, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, কর্মচারীদের কাছ থেকে তারা বইগুলো সংগ্রহ করেন। কম দামে তারা বইগুলো সংগ্রহ করে বেশি দামে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করেন। তবে পরিচিত ব্যক্তি ছাড়া তারা কারও কাছে এসব বই বিক্রি করেন না বলেও জানিয়েছেন। বিনামূল্যের প্রতিটি বই ২০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করা হয় বলে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য।
গত রবিবার উদ্ধার করা বইগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রথম শ্রেণির ৩০টি বাংলা বই, ১৭টি গণিত, ১৮টি ইংরেজি, দ্বিতীয় শ্রেণির ২৩টি বাংলা, পাঁচটি অংক, ১৩টি ইংরেজি, চতুর্থ শ্রেণির ১৮টি বাংলা, ১৪টি অংক, ১৫টি ইংরেজি, সাতটি বিজ্ঞান, চারটি বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি এবং পঞ্চম শ্রেণির ১২টি বাংলা বই। আরও রয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির তিনটি বিজ্ঞান, চারটি বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, নবম-দশম শ্রেণির ১৬টি বিজ্ঞান, ছয়টি করে উচ্চতর গণিত, ভূগোল ও পরিবেশ এবং তিনটি করে রসায়ন বই।
এছাড়াও দোকানটি থেকে মাদ্রাসার শিক্ষা বোর্ডের ইবতেদায়ি প্রথম শ্রেণির নয়টি করে অংক ও বাংলা, দ্বিতীয় শ্রেণির ছয়টি করে বাংলা, ইংরেজি, অংক ও পঞ্চম শ্রেণির ১২টি করে ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইসহ বই উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা ইলিয়াছ জানান, গ্রেপ্তার জুয়েলের বড় ভাই ও দোকান মালিক দেবাশীষ তালুকদার ওরফে আশিষ পালিয়ে গেছে। তাকে ধরা গেলে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আমাদের কাছে তথ্য আছে চট্টগ্রাম ছাড়াও আশপাশের কিছু জেলা থেকে বই আসে খোলা বাজারে। আমরা তার কিছু প্রমাণও পেয়েছি। জুয়েলের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানান পরিদর্শক ইলিয়াছ।
বাজারে বই পাওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।