বিদ্যুতের দাম খুচরায় ৮.৫% পাইকারিতে ৫% বাড়ল

11

পূর্বদেশ ডেস্ক

ভর্তুকি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে নতুন বছরে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য বাড়ানো শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাইকারিতে গড়ে ৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান বলেছেন, খুচরায় বাড়ানো হয়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ। এরমধ্যে যারা বেশি ব্যবহার করেন তাদের বেশি বেড়েছে এবং যারা ‘লাইফ লাইন’ বা একেবারে কম ব্যবহার করেন তাদের সামান্যই বেড়েছে। খবর বিডিনিউজের।
রাতেই একাধিক প্রজ্ঞাপনে বিদ্যুতের সমন্বয় করা নতুন মূল্যহার ও আনুষঙ্গিক চার্জ জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
বিদ্যুৎ সচিব বলেন, বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারিতে গড়ে পাইকারিতে প্রতি ইউনিটের দর আগের ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ টাকা ০৪ পয়সা হয়েছে। খুচরায় ৮ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৯৫ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ খুচরায় ভারিত গড়ে বাড়ল ৭০ পয়সা।
ইতোমধ্যে বিদ্যুতের পাইকারি বিদ্যুতের হুইলিং চার্জ ও বিতরণ সংস্থাগুলোর জন্য পাইকারি বিদ্যুতের মূল্যহার ঘোষণা করে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে যা ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হবে।
পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার ভর্তুকি সমন্বয়ের লক্ষ্যে, জনস্বার্থে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বিভিন্ন বিতরণ সংস্থা বা কোম্পানিকে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পাইকারি মূল্যহার পুনঃনির্ধারণ করিল। নতুন প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বা ডিপিডিসির ২৩০ কেভি লাইনে পাইকারি মূল্য আগের প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ১০৪০ পয়সা থেকে বেড়ে এখন হয়েছে ৮ টাকা ৪৪ পয়সা। ১৩২ কেভি লাইনের বিদ্যুতের মূল্য আগের ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা ১৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ টাকা ৪৭ পয়সা।
এছাড়া ৩৩ কেভি লাইনের বিদ্যুতের মূল্য ইউনিট প্রতি ৮ টাকা ২২ পয়সা থেকে বেড়ে এখন হয়েছে ৮ টাকা ৫৬ পয়সা।
একইভাবে পিডিবিসহ অন্য পাঁচটি বিতরণ কোম্পানির জন্য পাইকারি বিদ্যুতের দাম কাছাকাছি হারে বাড়ানো বা সমন্বয় করা হয়েছে।
এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের বলেন, এখন বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ পড়ছে ১২ টাকার মতো। বিক্রি করা হচ্ছে ৭ টাকায়। চলতি বছর বিদ্যুতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। পাইকারি দর ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ০৪ পয়সা করা হয়েছে। এতে ভর্তুকির পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা কমবে।
পিডিবির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর পরও প্রায় ৩৬ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায়। তেল-গ্যাস ও কয়লার আন্তর্জাতিক বাজারদর ক্ষেত্র বিশেষে একই থাকলেও আগের চেয়ে ডলার প্রতি ৪০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এখানেই বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ডলারের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য কাজ চলছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম আধুনিক প্রাইসিংয়ে যাচ্ছি। ইনডেক্স ও ফর্মুলা করা হয়েছে। প্রতিমাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় হবে।