বিজয়ের মাসে যানবাহন চলবে দোহাজারী সাঙ্গু সেতুতে

25

মো. শাহাদাত হোসেন চন্দনাইশ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের চন্দনাইশের দোহাজারী সাঙ্গু সেতুর সংযোগ সড়কসহ তিন লেনের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। রোড মার্কিং শেষে আগামী সপ্তাহের যে কোনদিন যানবাহন চলাচলের জন্য প্রাথমিকভাবে উম্মুক্ত করে দেয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের শুরুতে স্বপ্নের দোহাজারী সাঙ্গু ও চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতু ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ের ডিজাইনের সাথে সঙ্গতি রেখেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের দোহাজারী সাঙ্গু সেতুসহ চারটি সেতু নির্মিত হচ্ছে ছয় লেনের। ক্রস বর্ডার রোড নেকওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক জুলফিকার আহমেদ দৈনিক আজাদীকে জানান, ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কে ছয় লেনের চারটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
এগুলো হলো ২৩৮ মিটার লম্বা দোহাজারী সাঙ্গু সেতু, ৩২১.৪৫ মিটার লম্বা চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতু, চন্দনাইশের বরুমতি খালের উপর ৬০.১৫ মিটার লম্বা মাজার পয়েন্ট সেতু এবং ৬০ মিটার লম্বা পটিয়ার ইন্দ্রপুল সেতু। প্রতিটি সেতুরই প্রস্থ ৩১.২০ মিটার। ইতিমধ্যে চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতুটির তিন লেনের কাজ শেষে যানবাহন চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করা হয়েছে। এই সেতুর পাশে বিদ্যমান পুরোনো সেতুটি অপসারণের কাজ চলমান। পুরোনো সেতুটি পুরোপুরি অপসারণ করা হলে বাকি তিন লেনের কাজও শুরু করা হবে। তিনি বলেন, সংযোগ সড়কসহ দোহাজারী সাঙ্গু সেতুর তিন লেনের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। রোড মার্কিং শেষে আগামী সপ্তাহের যে কোনদিন যানবাহন চলাচলের জন্য এই সেতুটিও প্রাথমিকভাবে উম্মুক্ত করে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এই দুটি সেতু বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দ্রুততার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও চন্দনাইশের বরুমতি খালে মাজার পয়েন্ট সেতুটি একসাথে ছয় লেনের কাজই শেষ হয়েছে। এখন এপ্রোচ সড়কের কাজ চলমান। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে মাজার পয়েন্ট সেতুর শতভাগ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন। এছাড়া পটিয়ার ইন্দ্রপুল সেতুর কাজ ৩৫ ভাগ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)’র অর্থায়নে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এই চারটি সেতু নির্মিত হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এই চারটি সেতু নির্মাণ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্প্রেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত ২০১৮ সাল থেকে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে। ডিজাইন অনুযায়ী সেতুর নির্মাণ কাজ সরাসরি তদারকি করছেন জাইকা’র নিজস্ব টিম।