বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর করা ছিল অপকৌশল : র‌্যাব ই-ভ্যালির রাসেল-শামীমা তিন দিনের রিমান্ডে

11

ই-ভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিও) মোহাম্মদ রাসেল নানা অপকৌশলে নিজেকে এবং ই-ভ্যালিকে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, ‘ই-ভ্যালি কোম্পানি ইট সেলফ ইট ওয়াজ অ্যা ওয়ান ম্যান শো। ইট ওয়াজ মিস্টার রাসেল’।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির পর থেকে তেমন কোনো বড় পণ্য কোনো গ্রাহককে ফেরত দিতে পারেনি ই-ভ্যালি। বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপন কিংবা স্পন্সর করা রাসেলের একটি মার্কেটিং পলিসি। তিনি চেয়েছিলেন ই-ভ্যালিকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবাই একনামে চিনুক। একটি মার্কেট ভ্যালু তৈরি করতে চেয়েছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় প্রচার প্রচারণা এবং স্পন্সর করাতে মানুষ তাকে চিনেছে। গ্রাহকের কষ্টার্জিত টাকায় তিনি প্রচার প্রচারণা ও স্পন্সর করেছেন। এটি তার একটি অপকৌশল। এর মাধ্যমে তিনি প্রতারণামূলক কাজে যুক্ত থেকেছেন। গ্রাহকের টাকায় তিনি এসব করেছেন’।
তিনি বলেন, ‘তার প্রথম উদ্দেশ্য ছিল একটি ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করা। মানুষের নজর কাড়তে তিনি বিভিন্ন পন্থা নিয়েছিলেন। বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন। দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু যখন প্রতিষ্ঠানটির ভেতরের বিষয়গুলো জানতে পেরেছেন তখন তারা এটা থেকে সরে এসেছেন’।
বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার কোনো তথ্য তার কাছে থেকে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি কনফিডেন্ট ছিলেন আস্তে আস্তে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন। উনার নিজের বর্তমান যে দায় রয়েছে- গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া, এ বিষয়ে তিনি সন্দিহান ছিলেন’।
এদিকে প্রতারণা ও অর্থ-আত্মসাতের জন্য গ্রাহকের দায়েরকৃত মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালির সিইও মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এদিন দু’জনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনের পক্ষে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু শুনানি করেন।
আসামিপক্ষে ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ ও জে আর খাঁন রবিন রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে রাসেল দম্পতিকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদের দু’জনকে সিএমএম আদালতের হাজখানায় রাখা হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান থানায় আরিফ বাকের নামে এক ভুক্তভোগী প্রতারণা ও অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগ এনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা (নম্বর-১৯) দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আরিফ বাকের গত ২৯ মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। এগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও তারা দেয়নি। কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়ে সমাধান পাওয়া যায়নি।
অফিসে গিয়ে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললে তারা খারাপ ব্যবহার করেছে। সিইও রাসেলের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। তার সঙ্গে ইভ্যালি চরম দুর্ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগে বলা হয়। মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলেই তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।