বিচারের আশায় কেটে গেল একুশটি বছর

8

হাটহাজারী প্রতিনিধি

২১ বছরেও সম্পন্ন হয়নি উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ ফারুক মাহমুদ সিদ্দিকী হত্যার বিচার। এছাড়া ১৫ বছর ধরে দল ক্ষমতায় থাকলেও সরকারি কোন আনুক‚ল্য বা সহযোগিতাও পায়নি তার পরিবার।
আজ ১২ ফেব্রুয়ারি ফারুক মাহমুদ সিদ্দিকীর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় পবিত্র ঈদ উল আজহার দিন রাতে হাটহাজারী উপজেলার বুড়িশ্চর জিয়াউল উলুম মাদ্রাসার সভা চলাকালে অধ্যক্ষের রুমে ঢুকে ‘জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা’ ব্রাশফায়ারে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক ফারুক মাহমুদ সিদ্দিকী ও মাদ্রাসার সেক্রেটারি আলহাজ সোলায়মান খাঁনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ফারুক সিদ্দিকীর পিতা আল্লামা জাফর আহমদ সিদ্দিকী (র.)। ফারুক হত্যার পর সেসময় চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ডাকে পালিত হয় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।
ফারুকের কবর জেয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কেন্দ্রীয় নেতা ওবায়দুল কাদের, মতিয়া চৌধুরী,ড. হাছান মাহমুদ, সাবের হোসেন চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রামে ছুটে আসেন। শেখ হাসিনা ফারুকের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে বুকে টেনে নেন এবং আগোপ্লুত হয়ে পড়েন। সেদিন তিনি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই দিন বিকেলে লালদীঘি মাঠের জনসভায় এ নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেন।
হত্যাকাÐের পর ফারুক সিদ্দিকীর বৃদ্ধ মা সায়রা খাতুন বাদী হয়ে শিবির ক্যাডার গিয়াস হাজারিকা, গিট্টু নাসির ও হাবিব খানসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করে হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু রাজনৈতিক চাপে মামলার কার্যক্রম গতিহীন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অনেক দেন-দরবার করে মামলা ডিবিতে স্থানান্তর হয়। এরপর কয়েকবার আইও পরিবর্তন হয়। অবশেষে আদালতে মামলার চার্জশিট প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান অভিযুক্ত চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী গিয়াস হাজারিকাসহ চার্জশিটভুক্ত কয়েকজন র‌্যাবের সাথে এনকাউন্টারে নিহত হন।
এ হত্যাকান্ডের চার বছরের মাথায় ফারুকের মা মারা যান। তিনি দেখে যেতে পারেননি সন্তান হত্যার বিচার। আলোচিত এ হত্যার ২১ বছর পার হলেও বিচার সম্পন্ন হয়নি আজও।
ফারুকের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের অভিমত, রাষ্ট্রের নিযুক্ত আইন কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও আন্তরিকতার অভাবে এ হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও ফারুকের স্ত্রী এবং সন্তানরা পায়নি কোন সহায়তা।
প্রতি বছর শহীদদের স্মরণানুষ্ঠান থেকে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিচার দাবি করা হলেও বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদছে।
ফারুক সিদ্দিকীর সেদিনের (১১দিন) শিশু সন্তান জোনায়েদ জাফর সিদ্দিকী (চিশতী) এবার উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাবার মৃত্যুর ২১তম বার্ষিকী মানে আমার একুশ বছর। প্রতিবছর বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিষাদ ছুঁয়ে আমার জন্মদিন আসে। আমার জন্মের মাত্র ১১ দিনের মথায় বাবাকে হারিয়েছি ঘাতকের নির্মম বুলেটে।
তিনি বলেন, মমতাময়ী নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমাকে বুকে জড়িয়ে রাখা স্মৃতির ছবিটি দেখে আজও আশায় বুক বাঁধি, বাবাকে না দেখার স্বাদ নেই; স্বপ্ন দেখি। যদিও আমাদের ভাগ্যে জোটেনি কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি সহযোগিতা। তাতেও আক্ষেপ নেই। কারণ আমার বাবার প্রিয়নেত্রী তো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ চালাচ্ছেন লাখো শহীদের স্বপ্নের শপথে।
শহীদ ফারুক মাহমুদ সিদ্দিকীর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ ফেব্রæয়ারি। এ উপলক্ষে উত্তর জেলা ও স্থানীয় বুড়িশ্চর-শিকারপুর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন সমূহের উগ্যোগে শহীদের কবর সংলগ্ন নজুমিয়া হাট জিয়াউল উলুম মাদ্রাসা মসজিদে বাদ আছর খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, জেয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালামসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।