বিএনপি কার্যালয়ে কর্নেল অলি রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন

96

এম এ হোসাইন

সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে জিয়াউর রহমানের গঠন করা রাজনৈতিক দল বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। পরবর্তীতে এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হয়ে উঠেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠন করলে একাধিকবার মন্ত্রীত্ব পান তিনি। স্থান করে নেন দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে। দীর্ঘকাল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর মান-অভিমানে ২০০৬ সালে দল ছাড়েন কর্নেল অলি। গঠন করেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-এলডিপি। মান-অভিমানের নিরসন না হওয়ায় দীর্ঘ ১৬ বছরে যাতায়াত ছিল না বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও। গত মঙ্গলবার বিএনপির দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন অলি।
গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এমন একটা সময় ছিল যখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর। দীর্ঘ সময় যাতায়াত বন্ধ থাকা সেই জায়গায় অলির হঠাৎ পরিদর্শনে দলের মধ্যে ও বাইরে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলছেন আবার বিএনপিতে ফিরছেন কর্নেল অলি, আবার কেউ বলছেন তারেক রহমানের সাথে আপোস হওয়ায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেছেন তিনি। দলের মহাসচিব পদে অলিকে আনা হচ্ছে এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। যদিও এমন সব গুঞ্জনের কোনোটিরই সঠিকতা নিশ্চিত করা যায়নি। বিএনপি ও এলডিপির একাধিক নেতার সাথে কথা হলে তারাও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা বিএনপি ও এলডিপি নেতাদের দাবি, শরীক দলের প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। সেখানে ভাঙচুর হয়েছে, সেটা সরেজমিনে দেখেছেন। যুগপৎ আন্দোলনের যে সূচনা সেটাতে কর্নেল অলির এলডিপিও আছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলেও বিএনপিতে কর্নেল অলির ফেরার বিষয়টি গুঞ্জন ছাড়া কিছুই নয়।
অবশ্য বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রবীণ এই রাজনৈতিক জোটগতভাবে বিএনপির সাথেই আছেন। মূল দলে ফিরে এলে সেটা দোষের কিছু হবে না। বিএনপি ছেড়ে উনি দলের যেমন ক্ষতি করেছেন, তেমনি নিজের ক্ষতিও করেছেন। রাজনৈতিকভাবে অনেক সময় অনেক কিছু হতে পারে। উনি ফিরতেও পারেন আবার এসব নিছক গুঞ্জনও হতে পারে।
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টন কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিএনপির অভিযোগ, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ও চেয়ারপারসনের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। মঙ্গলবার কর্নেল অলি ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি কার্যালয় ঘুরে দেখেন।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনীও কোনো রাজনৈতিক অফিসে এমন বর্বরতা চালায়নি। কারও বাসায়ও না। পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে লুট করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির বড় প্রাপ্তি, এ সরকারকে বিশ্বের কাছে উলঙ্গ করেছে। কারণ দুনিয়ার মানুষ জেনেছে যে, এ সরকারের মনুষ্যত্ব নেই। পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ মিলে এই কাজ করেছে। তাদের মনে রাখতে হবে, অত্যাচার চালিয়ে কোনো স্বৈরশাসক টিকতে পারেনি।’
কর্নেল অলি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে আলাপ করে ১০ দফা ঘোষণা করেছি। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন করে যাব, আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে। সরকার পালানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ৭ ডিসেম্বরের পর তারা সেই সুযোগ বন্ধ করে ফেলেছে। এখন জনগণ তাদের বিচার করবে।’
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সাথে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল অলি আহমেদ ও বিএনপির অন্য ২৪ জন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য একত্রিত হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এলডিপি। তবে ২০০৭ সালে বিকল্প ধারা এলডিপি থেকে বের হয়ে যায়। ২০০৬ সাল থকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এলডিপি মহাজোটের সাথে ছিল। কিন্তু নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (২০০৮) আগে মহাজোট থেকে বের হয়ে আসে। তখন স্বতন্ত্রভাবে এলডিপি ১৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে শুধু দলের প্রেসিডেন্ট কর্নেল অলির আসনটিতে জয়লাভ করে। ২০১২ সালে এলডিপি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় ঐক্যজোটে প্রবেশ করে। ১৮ দলীয় ঐক্যজোট ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচন বর্জন করলে এলডিপিও নির্বাচনটি বর্জন করে। বর্তমানে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে শরীক দল হিসাবে রয়েছে এলডিপি।