বিএনপির সমাবেশ আজ

11

নিজস্ব প্রতিবেদক

চ্যালেঞ্জিং সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। কেন্দ্রঘোষিত ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ এর কর্মসূচি পালনে অনুমতি পেয়েছে দলটি। আজ বুধবার বিকাল তিনটায় নগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুমতি মিললেও সব দিক থেকে এ সমাবেশকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা হচ্ছে। কারণ গত ১৬ জানুয়ারি একই স্থানে সমাবেশ করতে এসে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল দলটির কর্মীরা। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া চারটি মামলার আসামি হয়ে ইতিমধ্যে আত্মগোপনে চলে গেছেন শীর্ষ অনেক নেতা। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার যৌথ উদ্যোগে আজ অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির এ বিক্ষোভ সমাবেশ। বিকাল তিনটায় দলীয় কার্যালয়স্থ আশা কর্পোরেশনের সামনে সমাবেশটি করার কথা রয়েছে। সমাবেশকে সফল করতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে সোমবার বিএনপির তিন নেতা সিএমপির কার্যালয়ে যান। তারা জেলা পরিষদ চত্বর অথবা পুরাতন রেলওয়ে চত্বরে সমাবেশের অনুমতি চান। গতকাল মঙ্গলবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় বিএনপিকে। গত ১৬ জানুয়ারি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে পালিত কর্মসূচি থেকে ২৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উল্লেখ করে ১০ দফা দাবিতে এ দিন সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহব্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, নাসিমন ভবনের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছি। আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে আসবে। যাদের মামলা আছে, তারা জামিনের অপেক্ষায় আছে। মামলা সমাবেশে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এসব ভয়ভীতি অনেক আগেই ত্যাগ করে নেতাকর্মীরা প্রতিটি কর্মসূচিকে সফল করে তুলছেন।
১৬ জানুয়ারি পুলিশের সার্থে সংঘর্ষের ঘটনায় একই রাতে চারটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলার পরের দিন থেকে শীর্ষ থেকে তৃণমূল নেতাদের বাসায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। কোর্ট হাজিরা দিতে ঢাকায় যাওয়ার পথে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার হন নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী। এরপর থেকে মামলার আসামি হয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও উত্তর জেলা বিএনপি’র আহব্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপি’র আহব্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, নগর যুবদলের সম্পাদক মো. শাহেদ ও ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন সহ শীর্ষ নেতারা। ইতিমধ্যে এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩১ জন। শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এ অবস্থার মধ্যে আজ তিন জেলা যৌথভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে যাচ্ছে।
নগর বিএনপি’র দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সোমবার দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহব্বায়ক আবু সফিয়ান, উত্তর জেলার নেতাসহ আমরা তিনজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের সাথে সাক্ষাৎ করি। এসময় আমরা জেলা পরিষদ চত্বর অথবা পুরাতন রেলওয়ে চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা বলি। মঙ্গলবার বিকালে প্রশাসন থেকে দলীয় কার্যালয়স্থ আশা কর্পোরেশনের সামনের জায়গায় সমাবেশ করতে বলা হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ শেষ করতে পারবো আশা করি।
তিনি বলেন, মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার যৌথ উদ্যোগে সমাবেশ হবে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহব্বায়ক আবু সুফিয়ান সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন। প্রধান অতিথি থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গ্রেপ্তার আতঙ্কে থাকা শীর্ষ নেতাদের ছাড়াই আজ সমাবেশ করবে বিএনপি। তারপরও গ্রেপ্তার আতঙ্ক থেকে যাচ্ছে। কারণ পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সবাই এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। এমনকি ১৯ জানুয়ারি জিয়াউর রহমানের জন্মবর্ষিকীর দোয়া মাহফিলে এসে এজাহারভুক্ত নয় এমন কর্মীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ এর অনুষ্ঠানে এসে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এটিকে কর্মসূচি পালনে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছে না বলে দাবি করছে দলটি। ভয়ভীতি দূর করে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে এমনটা দাবি দলের নেতাকর্মীদের।