বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প বাস্তাবায়নে গড়িমসি জলাবদ্ধতা নিরসনে এ খালের বিকল্প নেই

17

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) কর্তৃক দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের জন্য তিনটি নতুন খাল নির্মাণের মাস্টার প্ল্যানে প্রস্তাব করা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। এরপর ২৫ বছর অতিক্রম হয়, কিন্তু নতুন খাল এখনও অস্তিত্ব পায় নি। সর্বশেষ ২০১০ সালে বরাইপাড়া হতে চাকতাই খালের মুখ পর্যন্ত নতুন খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন যা ২০১৪ সালে ২৪ জুন একনেকের সভায় সরকার অনুমোদন দেয়। এরপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যে গড়িমসির ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে, তা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। সবচেয়ে বড় দূর্ভাগ্যের এ প্রকল্প নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের নানা ছলচাতুরী এবং সর্বশেষ প্রকল্প উদ্বোধনের নামে নাটকের মঞ্চায়ন বাস্তবে নগরবাসীর সাথে প্রতারণা বৈ আর কি হতে পারে? এ অবস্থায় নগরবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আসলে কতটা আন্তরিক সেই প্রশ্ন খুবই স্বাভাবিক। শুক্রবার দৈনিক পূর্বদেশে ‘একটি খালের ‘জন্মযন্ত্রন’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ জুন বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদীর সংযোগ খাল খনন প্রকল্পের অনুমোদিত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের খনন কাজ ৭ বছরেও শুরু করা যায়নি। কখন যে শুরু হবে তারও কোন দিনক্ষণ বলে দেয়ার মতো সময় আসেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার এ প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে ঠেকেছে ১২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া তিনদফা মেয়াদ বাড়ানো ও একদফা সংশোধনের দ্বিতীয় বারের সংশোধনীতে আবার ১১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তাও হয়ে গেছে ৫ মাস। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন শতভাগ জিওবি (সরকারি অর্থ) অর্থায়নে প্রকল্পটির সংশোধনী চাইলেও ৯৫ ভাগ জিওবি অর্থায়নের সুপারিশ করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এসবের চূড়ান্ত ফয়সালা হবে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) উঠলে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ভূমি অধিগ্রহণ বিলম্বের কারণে প্রকল্পের এমন ‘লেজেগোবরে’ অবস্থা বলে জানান। তাছাড়া শুরু থেকে প্রকল্প পরিচালকের গাফিলতি ও অদূরদর্শিতার কারণে এমনটা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। এরপর প্রকল্প সংশোধন ও বরাদ্দ বাড়লেও তা কেন বাস্তবায়ন করা হয়নি-তা নিয়ে স্বয়ং প্রশ্ন তুলেছেন নবনির্বাচিত মেয়র মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রকল্প বাস্তবায়নে এধরনের গড়িমসির ফলে একদিকে খরচ বৃদ্ধির কারণে যেমন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনি এই প্রকল্পের ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অবস্থানও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জানি বর্তমান মেয়র চট্টগ্রামের বহদ্দারবাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা। আর আরইপাড়া খাল টি অনেকটা তাদের বাড়ির গা ঘেঁষেই চাকতাই মিলেছে। জলাবদ্ধতার দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে তিনও মুক্ত নন। সঙ্গত কারণে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী নতুন খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে খুব আন্তরিক বলে জানা গেছে। আমরা আশা করি, ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বা মানুষের ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসব কারণে অতীতে প্রকল্প নিয়ে গড়িমসি করা হলেও এখন সেই সুযোগ এখন আর থাকবেনা। সমস্যা থাকবে, তবে নগরীর স্বার্থে তা সমাধানের পথও খুঁজে বের করতে হবে। নগরের জলাবদ্ধতা দূর করতে এই নতুন খাল খননের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রকল্পের সঙ্গে যেহেতু পুরো চট্টগ্রামের স্বার্থ জড়িত সেখানে ব্যয় বৃদ্ধি বা কিছু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকল্পটি যখন প্রথম গ্রহণ করা হয়েছিল তখন এর বাস্তবায়ন করলে খরচ এত বাড়ত না। এখন যদি সিটি করপোরেশনের গড়িমসির কারণে আরও দেরি হয় তবে খরচ আরও বাড়বে। নগরবাসীর দুর্ভোগও বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সক্রিয় হবে বলে আমরা আশা করছি।