বাবাকে একবার হেলিকপ্টারে চড়ালেন পুত্র

16

পূর্বদেশ ডেস্ক

বৃদ্ধ বাবার জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া করলেন প্রবাসী ছেলে। পরে সে হেলিকপ্টারে চড়ে বাবা-ছেলে নিজ গ্রাম থেকে উড়ে গেলেন ঢাকায়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ চত্বরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
এমন খবর আগেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় দৃশ্যটি দেখতে শত শত লোক জড়ো হন বিদ্যালয়ের মাঠ চত্বরে। বৃদ্ধ বাবাকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে উঠার আগে প্রবাসী আকাশ মিয়াকে গ্রামের মানুষ ও তাদের আত্মীয় স্বজনেরা বিদায় দেন। এ সময় তাদের সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন প্রবাসী আকাশ মিয়ার ছেলে জাহিদ মিয়া ও স্থানীয় সমাজসেবক আশিকুর রহমান।
আকাশ মিয়া (৩৯) আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার জাকির মিয়ার ছেলে। প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মরিশাসে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। এক সপ্তাহ আগে মরিশাস থেকে দেশে আসেন তিনি। পরে বাবা জাকির মিয়ার (৬৪) স্বপ্নপূরণ করতে হেলিকপ্টার ভাড়া করে নিজ গ্রাম থেকে ঢাকা ফিরে যান। পুনরায় বৃহস্পতিবার রাতে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবার প্রবাস জীবনে ফিরে যাবেন তিনি। খবর বাংলানিউজের
গ্রামবাসীরা বলেন, আমাদের গ্রাম থেকে প্রথম হেলিকপ্টারে গেছেন আকাশ মিয়া। সেই সঙ্গে স্বপ্নপূরণে তার বাবাকেও সঙ্গে নিয়েছেন। এটা বাবার প্রতি ছেলের অন্যরকম ভালোবাসা।
প্রবাসী আকাশ মিয়া বলেন, আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমি বিদেশে যাওয়ার সময় সে হেলিকপ্টারে গ্রাম থেকে আমার সঙ্গে ঢাকা যাবে। বাবার প্রতি ভালোবাসা থেকে সে চেষ্টা করেছি। বাবার স্বপ্নপূরণ করতে পেরে ভালো লাগছে, আনন্দ লাগছে।
প্রবাসী আকাশ মিয়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি শুরু হলে মরিশাসের আসমোক কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকার মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন গুণীজনের মাধ্যমে প্রবাসে থেকেও পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারের খাদ্য সহায়তা নামক কার্ড তৈরি করে প্রতি মাসে পাঁচ কেজি করে চাল দেন। ঈদের সময় সেমাই-চিনি থেকে শুরু করে গরুর মাংস পর্যন্ত বিতরণ করেন। সে সঙ্গে নতুন পোশাকও উপহার দিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনুদান ছাড়াও খেলার সরঞ্জাম, চিকিৎসা ও ঘর তৈরি করে দেন। শুধু তাই নয়; খাদ্য সহায়তা নিতে আসা হতদরিদ্রদের যাতায়াতের ভাড়াও দিয়ে দেন। এসব মানবিক কর্মকান্ড পালন করে সর্ব মহলে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।