বান্দরবানে সব স্বাভাবিক সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

8

করোনা সংক্রমণ বাড়লেও সচেতনতার বালাই নেই বান্দরবানে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা পালনের চিত্র হতাশাজনক। দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও শহরজুড়ে বিচরণ করেছে রিকশা, টমটম ও সিএনজি চালিত অটোরিক্শা।
নিত্যপণ্য কেনাকাটা করতে শহরের কাঁচাবাজারগুলোতে প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল। গতকাল বুধবার বান্দরবান বাজারে কাঁচাবাজারসহ প্রতিটি দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ধাক্কা-ধাক্কি করে সবাই বাজার করছে- এমন দৃশ্যের দেখা মেলে।
হাট-বাজারে অধিকাংশ মানুষ এখনো মাস্ক ব্যবহার করছে না। স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই বান্দরবানে। স্বাভাবিক গতিতে চলছে বান্দরবানের জীবনযাত্রা। এতে জেলায় করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, সবার উচিৎ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা। আর কেউ যদি নিয়ম উপেক্ষা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বাংলা নতুন বছরকে বরণ ও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐত্যিবাহী সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে লকডাউনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বান্দরবানে শপিং সেন্টারগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবররীজি।
এসময় তিনি বলেন, পার্বত্য জেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পুরাতন বাংলা বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে প্রতি বছরই সাংগ্রাই উৎসব পালন করেন। সাংগ্রাই উৎসব ঘিরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সীমিত আকারে শপিং সেন্টার খোলার সিন্ধান্ত নেয়া হয়। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সকাল ৮ট থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নতুন সিন্ধান্ত অনুযায়ী সীমিত পরিসরে দোকান খোলা রাখা যাবে। এ সময় সব ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করার জন্য অনুরোধ জানান এবং নির্দেশনা অমান্যকারীদের জরিমানা করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবররীজি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুৎফুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, সিভিল সার্জন ডা. অংসুই প্রূ মারমা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনরে নেতৃবন্দ।