বান্দরবানে মহাপিন্ডদানে সমাপ্ত হল কঠিন চীবর দানোৎসব

12

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানে মহা পিন্ডদানের মধ্য দিয়ে শেষ হল মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব। মঙ্গলবার সকালে রাজ গুরু বৌদ্ধ বিহার থেকে দেড় শতাধিক ভিক্ষু পায়ে হেঁটে রাজারমাঠ, উজানী পাড়া ও মধ্যম পাড়াসহ শহরের প্রধান সড়কে পিন্ডদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এসময় পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং সহ শহরের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নর নারি ভিক্ষুদের পিন্ডদান করেন। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের আমল থেকে ভিক্ষুগণ সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লা থেকে পিন্ড আহরণ করতেন। দীর্ঘ দুই কিলোমিটার পথ পর্যন্ত পাহাড়ি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে সারিবদ্ধভাবে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ছোয়াইং, চাল, নগদ টাকা, চীবর, মোমবাতিসহ উৎসবের নানা সামগ্রী ধর্মীয় গুরুদের দান করেন। পুণ্য লাভের আশায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ভিক্ষুদের পিন্ডদানের পাশাপাশি নানা প্রকার মিষ্টান্ন খাবারও দান করেন। এছাড়া বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সামনে থাকা বৌদ্ধ মূর্তিকে পূজাও দেওয়া হয়। পিন্ডদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, পার্বত্যমন্ত্রীর সহধর্মিণী মেহ্লাপ্রু মারমাসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষেরা।
এদিকে বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানান, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাসের পর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় দায়ক-দায়িকারা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সম্মানে বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করেন। এই উৎসবে পাহাড়িরা চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নতুন তুলা থেকে চরকার মাধ্যমে সুতা তৈরি করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধানের জন্য চীবর কাপড় বুনে ভিক্ষুদের মাঝে চীবর দান করেন। কোনো প্রকার সেলাই ছাড়া তৈরি চীবর কাপড় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিতরণ করা হয় এ উৎসবে। প্রায় দুই হাজার বছর আগে মহা পুণ্যবতী নারী বিশাখা দেবী এই কঠিন ব্রত পালন করে বুদ্ধকে চীবর দান করেছিলেন। প্রতিবছর বান্দরবানে কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারসহ পাহাড়ের বৌদ্ধ বিহারগুলোতে ব্যাপক আয়োজনে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব ধর্মীয়ভাবে পালন করে আসছে।