বান্দরবানে বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন

2

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানে বন্যা আর লকডাউনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলা শহরের বেশ কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে এলাকার জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। করোনার সংক্রমণ দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। তার ওপর অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশংকাও রয়েছে। সাঙ্গু নদীতে উজানের পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলা শহরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগর, কাশেম পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষের একমাত্র বাহন নৌকা। নৌকা দিয়ে পাড়া-মহল্লার মানুষ আসা-যাওয়া করছে। জেলা সদরের সাথে সাতটি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি মোকবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। খোলা হয়েছে মোট ১৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরিজী জানান, বন্যা ও দুর্যোগে যেকোন ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এছাড়াও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। আশ্রয় নেওয়া মানুষের মাঝে ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বান্দরবান পৌরসভা এলাকার ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তত্ত¡াবধানে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পুরো জেলায় ১৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
অপরদিকে বান্দরবানে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরো ৩২ জন। আক্রান্তের মধ্যে ২৬ জন বান্দরবান সদর, ৪ জন রুমা, ১ জন থানচি এবং ১ জন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাসিন্দা। তবে বন্যায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের গাদাগাদির কারণে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশংকাও রয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বান্দরবানে ২য় পর্যায়ে সিনোফার্মার ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে এবং ৬ হাজার ৬ শত ৫৪ জন প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. অং সুই প্রু মারমা জানান, এ পর্যন্ত বান্দরবানে ৯ হাজার ৫ শত ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তার মধ্যে ৮ হাজার ৬ শত ৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে, এদের মধ্যে ১ হাজার ৭ শত ১ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ২ শত ৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তিনি আরো জানান, জেলায় এই পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।