বান্দরবানে জনপ্রিয় হচ্ছে মিষ্টি পানের চাষ

5

মো. শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান

একসময় পাহাড়ে কেবল জুম চাষ আর তামাক চাষ হলে পাহাড়ে চূড়ায় এখন পান চাষ করে রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়েছে পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানে পান চাষীরা। বিস্ময়কর হলেও পাহাড়ের চূড়ায় পান চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছেন কৃষকরা। জুমচাষের চেয়ে পান চাষ লাভজনক। তাই অনেকেই পান চাষের দিকে ঝুকছেন। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে পান চাষির সংখ্যা। পাহাড়ে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বেশির ভাগ মানুষই জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। ধান, হলুদ, মারফা, মিষ্টি কুমড়ো, তিল, ভুট্টা ও বরবটিসহ বিভিন্ন সবজির চাষ হয় পাহাড়ে। তবে জুমচাষের চেয়ে পান চাষ লাভজনক হওয়ায় পান চাষের দিকে ঝুঁকছেন অনেক চাষী। স্থানীয় পান চাষীদের মতে, একসময় এসব পাহাড়ে কেবল জুম চাষ হলেও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এখন পাহাড়ের চূড়া বা ঢালুতে পানের বরজ দৃশ্যমান। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরপর পানের আবাদ শুরু করেন চাষিরা।প্রতি ২৫ শতক জমিতে পানের আবাদ করতে খরচ হয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তবে শীত মৌসুমে পানের দাম ভালো পাওয়ায় প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা লাভ হয়। ফলে পান চাষীরা খুশি। চাষীদের মতে, পানের বরজে একবার পান চাষ করলে ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত একটানা পান বিক্রি করা যায়। তিন মাস পরপর পান তোলা যায়। পান চাষে যেমন খরচ কম, তেমনি অধিক লাভজনকও। তবে জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় পানের আবাদ হলেও সবচেয়ে বেশি পানের আবাদ হচ্ছে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। উপজেলার বাইশারী, দৌছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম ইউনিয়নের সমতল ও পাহাড়ী ঢালুতে প্রচুর পানের চাষ হচ্ছে।
এদিকে সরজমিনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে ঘুরে পান চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে দেশে প্রচুর পরিমাণ পানের চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি এসব পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে ও রপ্তানি হচ্ছে। আর এতে সরকার পাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব। তাছাড়া প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে পানের আগা/চারা বিক্রয় করে চাষীরা লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে থাকেন। চাষীদের মতে, পাহাড়ি মিষ্টি পানের চাহিদা থাকায় আমরা ও আগ্রহী হচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং অতিবৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া থেকে রক্ষা পেলে পান চাষ করে অধিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এখনও বাজারে পানের দাম অনেক চড়া রয়েছে।পান ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম জানান,পানের বরজ থেকে প্রতি সপ্তাহে হাটের দিন চাষীরা পান বিক্রয়ের জন্য বাজারে নিয়ে আসেন। বর্তমানে পান চাষ করে এলাকায় কয়েক হাজার পান চাষী স্বাবলম্বী হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ এম. হাসান আলী বলেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, আলীকদম ও বান্দরবান সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জুড়েই বেড়েছে পানের চাষ। পানের বরজে স্বপ্ন বুনছেন জেলার কয়েক হাজার কৃষক। জেলায় সবচেয়ে বেশি মিষ্টি পানের চাষ হয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। এ বছর জেলার সাতটি উপজেলায় ১৪০হেক্টর জমিতে পান চাষের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৭০ মেট্রিক টন। এই কর্মকর্তা মতে, পান চাষের মাধ্যমে বান্দরবানে ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে অনেক কৃষককের।