বাগিচাহাটে মোগল আমলে প্রতিষ্ঠিত খাঁন জামে মসজিদ

7

মো. শাহাদাত হোসেন, চন্দনাইশ

চন্দনাইশ উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী বাগিচাহাট খাঁন জামে মসজিদ। জানা যায়, ১৬৬৬ সালে মোগল শাসন আমলে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন হিসাবে স্মৃতি বহন করে আছে এ মসজিদ। মসজিদের দক্ষিণ পাশে মোগল ২২ সেনার কবর। যা ‘বাগ-ই-শাহ’ কবরস্থান নামে পরিচিত। মসজিদ সংলগ্ন উওর পাশে নবী করিম (সা.) ও বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)’র কদম মোবারক অদ্যবধি প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এ অঞ্চলে বসতি স্থাপনকারী পরগনা রাজ্যের বিশিষ্ট মুসলিম জমিদার, সু-শাসক, ধর্ম প্রচারক ও সূফী সাধক, খাঁন শাহী জামে মসজিদ ও কদম রাসূল (দ.) দরগাহ শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন, শাহ সূফী নবাব শেরে জামান খাঁ (রহ.)। মোগল আমলে চুনা চুরকী দ্বারা চার দেয়াল ঘেরা এক গম্বুজ বিশিষ্ট মাজার শরীফ নির্মান করা হয়। মোগল স্থাপত্য রীতিতে চমৎকার ডিজাইনে নির্মিত মাজারের ভিতরে একটি স্তম্ভের উপর হুজুর পাক (দ:) এর বাম পা মোবারকের চাপ এবং গাউছুল আজম দস্তগীর বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)’র ডান পা মোবারকের চাপের চিহ্ন সম্বলিত পাথর স্থাপন করা হয়। যা যুগ যুগ ধরে আশেকানে রাসূলদের নিকট কদম রাসূল (দ.) বা কদম মোবারক (দ.) হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘ দিনের অযতœ অবহেলা এবং সংস্কারের অভাবে কদম রাসূল (দ:) মাজার শরীফ ও মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত শাহী কবরস্থানে শাহ সূফী নবাব শেরে জামান খাঁ (রহ:) এর মাজার শরীফসহ ২২ কবর মনোমুগ্ধকর শৈল্পিক ডিজাইনে নান্দনিক কারুকাজে দৃশ্যমান হয়ে আছে। মসজিদের দক্ষিণ পাশে মোগল স¤্রাজ্যের ২২ জন সেনার কবর। একই ডিজাইনে, শৈল্পিক স্থাপত্যে নির্মিত কবরগুলো এখনো মোগল আমলের নির্দশন হিসেবে স্মৃতি বহন করে যাচ্ছে। কবর গুলো আজ থেকে প্রায় ৩’শ ৫৬ বছর পূবে ১৬৬৬ সালে মোগল আমলে চট্টগ্রাম বিজয়কালে সাঙ্গু নদী পাড় পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ কালে শহীদ হওয়া ২২ জন সেনার কবর। ২২ জন সেনার কবরের স্থান হিসেবে নাম দেয়া হয়েছিল ‘বাগ-ই-শাহ’ কবরস্থান। যেখানে মোগলদের বাগিচা ছিল, পাশে ছিল ভান্ডারখানা। যা এখন ভান্ডারীপাড়া নামে পরিচিত এবং মোগলদের বাগিচাকে হাটে পরিণত করে বাগিচাহাট নামকরণ হয়। ধর্ম-প্রচারক, শাহ সুফি ইয়াছিন খাঁ পবিত্র মক্কা নগরী থেকে আনা নবী করিম (সা.) ও গাউছুল আজম দস্তগীর বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ:)’র পায়ের চিহ্নিত পাথর উপহার দেন আধু খাঁকে। তিনি মসজিদের উত্তর পাশের কক্ষে এ দু’টি স্থাপনা স্থাপন করেন। যা আজও ইতিহাসের স্মারক হিসেবে রয়েছে মসজিদের পাশের কক্ষে। কক্ষের একপাশে দেয়ালে সংরক্ষিত আছে নবী করিম (সা.)’র হাত মোবারকের চিহ্ন। মসজিদের চারিপাশে বাউন্ডারী দিয়ে ভিতরে চুনা চুরকী দ্বারা চার দেয়াল ঘেরা এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি নির্মান করা হয়। মসজিদ, ২২ কবরস্থান, কদম রাসুল (সা.) কক্ষগুলি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারের অভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা সূফি সামশুদ্দীন আহমদ ভান্ডারী (রা.) বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে মসজিদ, কবরস্থান, কদম রাসুল (সাঃ) সংস্কার করেন। বর্তমানে মসজিদটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদে পরিণত হলেও পূর্বের চুনা-চুরকী দ্বারা নির্মিত মসজিদের চিহ্ন এখনো বহন করছে। মসজিদের পাশ্ববর্তী কদম রাসুল (সা.)’র পানি পান করে অনেকে তাদের রোগ মুক্তির জন্য আসেন। প্রতি বৃহস্পতি ও শুক্রবার ভক্তরা এ মসজিদে এসে কদম রাসুল (সা.)-এ সম্মান প্রদর্শন করতে দেখা যায়।