বাকলিয়ায় চাঁদাবাজির ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার

9

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুনব্রিজ নবাব খাঁ কলোনী এলাকায় ফলের দোকানে চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাত সোয়া ১০ টায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান, চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. বেলাল উদ্দিন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নতুনব্রিজ এলাকার মো. আমিরের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২০), একই এলাকার মো. জাবেদ (২২) ও বাস্তুহারা এলাকার মো. নাছির উদ্দিনের ছেলে মো. আরাফাত (২১)।
জানা গেছে, গত সোমবার ও মঙ্গলবার নতুনব্রিজ এলাকায় মো. বাদশা (২০) নামে এক ফল দোকানি থেকে দফায় দফায় চাঁদা দাবি করে স্থানীয় চট্টগ্রাম অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জানে আলম ও তার অনুসারীরা। পরে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে তারা। এ ঘটনায় বাদি হয়ে বাকলিয়া থানায় জানে আলমসহ ৯ জন চিহ্নিত আসামি ও অজ্ঞাত ৫/৬ জন আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন বাদশার বাবা মো. সিরাজ মিয়া। এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার বাদি মো. সিরাজ মিয়া বলেন, আমার ছোট ছেলে মো. বাদশা নতুনব্রিজ এলাকায় ভ্যানে করে ফল বিক্রি করে। আসামিরা বিভিন্ন সময়ে আমার ছেলেসহ অন্যান্য ভ্যানওয়ালাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। এ চাঁদা দিতে আমার ছেলেসহ অন্যান্য ফল ব্যবসায়ীরা অপারগতা জানায়। পরে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আমার ছেলে নতুনব্রিজ গোলচত্ত¡র এলাকায় ভ্যানে করে ফল বিক্রি করার সময় চাঁদা দাবি করে। আমার ছেলে বিবাদীদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় বিবাদীগণ আমার ছেলের ফল বিক্রির ভ্যান উল্টে দিয়ে ভ্যানের সব ফল ফেলে দেয়। তখন আমার ছেলে ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ করবে বলে আসামিদের জানালে তারা যার যার মত চলে যায়। পরদিন রাত ৯টায় আমার ছেলে একই এলাকায় ফল বিক্রি শেষে বাসায় যাওয়ার পথে নবাব খাঁ কলোনীর সুমনের মুদির দোকানের সামনে গেলে জানে আলমের নেতৃত্বে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামিগণ, মামলার বিবাদীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জন লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে আমার ছেলের পথ রোধ করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে দেখলে জানে আলম আমার ছেলের পকেটে থাকা ফল বিক্রির ৭ হাজার ২২২ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তার সাথে অন্যান্য আসামিরাও ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পাশাপাশি ওই এলাকায় ব্যবসা করলে আমাকে ও আমার ছেলেকে বসবাস করতে দিবে না বলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে।
এ বিষয়ে জানতে বাকলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক রাশেদুল হককে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন সাড়া দেননি।
তবে চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. বেলাল উদ্দিন পূর্বদেশকে বলেন, বাদীর এজাহার অনুযায়ী আমরা তিনজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছি। বাকি আসামিদেরও ধরার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।