বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা হেরে গেল কেরালার কাছে

31

বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই বসুন্ধরা কিংসে। মাত্র কয়দিন আগে ভারতের মাঠে তাদেরকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল এরাই। বিদেশি ফুটবলারও ছিল বেশ কয়জন। এ দলটিই বর্তমান বাংলাদেশ (বি লিগ) চ্যাম্পিয়ন। স্বাভাবিকভাবেই শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ফেভারিটের তকমা নিয়েই প্রথমবারের অংশগ্রহণ। কিন্তু কি আশ্চর্য! এ দলটিই হেরে গেল মাত্র একদিন আগে চট্টগ্রামে পা ফেলা, কোন অনুশীলনেরই সুযোগ না পাওয়া শ্রী গোকুলাম কেরালা এফসির কাছে।
এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে গতকালকের ২য় ম্যাচে শুরুর ছন্দ হারিয়ে গেল দ্রুত। প্রতিপক্ষের শক্তি আর গতির সঙ্গে পেরে উঠেনি বসুন্ধরা কিংস। গোকুলাম কেরালা এফসির বিপক্ষে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হেরে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ শুরু করেছে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা।
শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের গ্রুপ ‘বি’তে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বসুন্ধরা কিংস ও গোকুলাম কেরালা এফসি। ম্যাচে অবধারিতভাবেই ফেভারিট ছিল কিংস। কিন্তু মাঠে নামার পর গোকুলাম বুঝিয়ে দিল এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন শিরোপা ডুরান্ড কাপ তারা এমনি এমনি জেতেনি।
শুরু থেকে গোছানো ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের অর্ধে আধিপত্য করতে থাকে বসুন্ধরা। অষ্টম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে বিপলুর শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ত্রয়োদশ মিনিটে রবিউল হাসানের কর্নারে দেনিয়েল কলিনন্দ্রেস সোলেরার হেড দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে গেলে হতাশ হতে হয় গ্যালারি ভর্তি হাজার হাজার বসুন্ধরা সমর্থকদের। তবে কিংসের সেরা খেলোয়াড় ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসকে বোতলবন্দী করে রেখে গোকুলাম প্রথমার্ধেই আদায় করে নিয়েছে দুই গোল। ম্যাচটা তাতে প্রথম ৪৫ মিনিটেই হেরে বসে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা।
চার ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণ জমাট রেখে খেলতে থাকা গোকুলাম খেলার ধারার বিপরীতে ২৪তম মিনিটে প্রতিআক্রমণে এগিয়ে যায়। আন্দ্রে দেনিসের লম্বা পাস ধরে নাথানিয়েল গার্সিয়া বল বাড়ান ডি-বক্সে থাকা হেনরি কিসেকাকে। উগান্ডার ফরোয়ার্ডের সুইং মেশানো জোরালো শট আনিসুর রহমান জিকোর হাত ছুঁয়ে জাল খুঁজে নেয়।
পিছিয়ে পড়ার পর খেই হারাতে থাকে স্বাধীনতা কাপ ও লিগ জিতে আসা বসুন্ধরা। গত লিগে ১১ গোল করা সোলেরা, লেবাননের তরুণ ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ জালাল কুদো পারেননি প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়াতে।
৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে শেষ মুহূর্তে আবাহনীর পরিবর্তে এই টুর্নামেন্টে খেলতে আসা গোকুলাম। ডি-বক্সের একটু ওপর থেকে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ফরোয়ার্ড গার্সিয়ার বুলেট গতির শট কিছুটা বাঁক খেয়ে চোখের পলকে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়।দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আবারও বসুন্ধরার জালে বল জড়িয়ে দেয় গোকুলাম। নাথানিয়েল গার্সিয়ার কাটব্যাকে ডান পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উগান্ডার ফরোয়ার্ড হেনরি কিসেক্কা।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে এসে গোলের দেখা পায় বসুন্ধরা কিংস। বিশ্বনাথ ঘোষের ক্রসে প্রথমে হেড নিয়েছিলেন কলিন্দ্রেস। তার হেডে বল বারে লেগে চলে যায় এলিটা কিংসলের পায়ে। এলিটার জোরের সঙ্গে নেয়া শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরলে বল পান মতিন মিয়া। মতিন ব্যর্থ হননি, গোকুলাম গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে।
পরে ৭৬ মিনিটে আরেকবার ব্যবধান প্রায় কমিয়েই ফেলেছিলেন মতিন। কলিন্দ্রেসের পাস থেকে পাওয়া তার শটটি এবার আর গোল হয়নি, লেগেছে সাইড বারে। গোলটি হলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারত! দুর্ভাগ্য বসুন্ধরার।
শেষদিকে ৮৭ মিনিটে আবারও গোলমুখি গোলা ছুঁড়েছিলেন মতিন মিয়া। এবার বাধা হয়ে দাঁড়ান গোকুলাম গোলরক্ষক উভায়ো কাদাবাথ। তাকে ফাঁকি দিতে না পারায় ব্যবধান আর কমানোর সুযোগ পায়নি কিংস।
খেলঅ শেষে ম্যান অব দ্য ম্যাচ কেরালার ন্যাথানিয়েল গার্সিয়ার হাতে ক্রেস্ট ও প্রাইজমানি তুলে দেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাথে ছিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ (ডলফিন), টুর্নামেন্টের প্রধান সমন্বয়ক ও স্পন্সর সাইফ পাওয়ার টেক এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর তরফদার রুহুল আমিন ও বর্ষীয়ান ক্রীড়া সংগঠক শাহাবুদ্দিন বাবর আলী।