বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভূমিকা

8

ঢাকা প্রতিনিধি

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং আশা প্রকাশ করেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের আইনসম্মত ও ন্যায্য অবস্থান বুঝবে ও সমর্থন করবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের ফেসবুক পেজে চীনের রাষ্ট্রদূত এ মন্তব্য করেছেন।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেশটির আরও জোরালো ভূমিকা চাইবো।
ঢাকায় চীন দূতাবাসের দেওয়া বিবৃতিতে চীনের তীব্র বিরোধিতা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের সমালোচনা করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ভালো প্রতিবেশী, বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার। সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখন্ডের অখন্ডতার মতো মৌলিক স্বার্থের বিষয়ে উভয় দেশ সবসময় একে অপরকে বোঝে এবং সমর্থন করে। ‘ওয়ান-চায়না’ নীতি এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সন্তুষ্টি জানায় চীন।
স্পিকার পেলোসির এই সফর তাইওয়ান প্রণালির শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে টেনশন ও সংঘাত ডেকে আনতে পারে এবং এর ফলে সারা বিশ্ব আরও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভূমিকা চায় ঢাকা
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের জোরালো ভূমিকা চায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেশটির আরও জোরালো ভূমিকা চাইবো।
শাহরিয়ার আলম বলেন, আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এমন একটি সময়ে ঢাকায় আসছেন, তার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকেই ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে আমরা রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরে এই সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান চাইবো। আগামীকাল শনিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন।

‘এক চীন’ নীতির পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত
এদিকে ‘এক চীন’ নীতির পক্ষে বাংলাদেশ তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ তাইওয়ানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বন করার আহবান জানাচ্ছে।
এ অঞ্চলে ও বাইরে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এমন কোনো কাজ করা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয় বিবৃতিতে।
এতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশ এক চীন’ নীতির প্রতি তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহবান জানাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এ বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।