বাংলাদেশের আবার হার, এক ম্যাচ আগেই সিরিজ শ্রীলঙ্কার

45

শ্রীলঙ্কায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও শোচনীয় পরাজয়ের শিকার হয়েছে সফররত বাংলাদেশ। কলম্বোর রানাসিংগে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের ২য় ম্যাচে গতকাল ৭ উইকেটে হেরে যায় তামিম গং। এর আগে প্রথম ম্যাচে ৯১ রানে হেরেছিল টাইগাররা। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। আগামী ৩১ জুলাই হোয়াইট ওয়াশ এড়ানোর টার্গেটে মাঠে নামতে হবে টাইগারদের।
চার বছর ঘরের মাঠে কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি শ্রীলঙ্কা। সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে এবং তিলকারতেœ দিলশানদের একসঙ্গে অবসরের কারণে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জয় যেন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল শ্রীলঙ্কার জন্য। অবশেষে সেই জয়টা এলো লঙ্কানদের ঘরে।
ঘরের মাঠে অবশেষে তারা সিরিজ জয় করতে পারলো। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই জিতে নিলো শ্রীলঙ্কা, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের দলকে দ্বিতীয় ম্যাচেও হেসে-খেলে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। হাতে ছিল তখনও ৩২ বল।
২০১৫ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ ঘরের মাঠে সিরিজ জিতেছিল লঙ্কানরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল ৩-০ ব্যবধানে। এরপর গত ৪৪ মাসে আর ঘরের মাঠে সিরিজ জেতা হয়নি শ্রীলঙ্কার। অথচ এর মধ্যে ঘরের মাঠে ৬টি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল তারা। এখনও বাকি আছে এক ম্যাচ। ওই ম্যাচেও জিততে পারলে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পাবে তারা।
জয়ের জন্য ২৩৯ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল শ্রীলঙ্কান দুই ওপেনার। আভিসকা ফার্নান্দো আর দিমুথ করুনারতেœর দৃঢ়তায় শুরুতেই ৭১ রানের বড় জুটি গড়ে ওঠে।
মিরাজ, শফিউল, তাইজুল কিংবা মোস্তাফিজুর রহমান- কোনো বোলারকে দিয়েই ব্রেক থ্রুটা আনতে পারছিলেন না অধিনায়ক তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজই এনে দিলেন ব্রেক থ্রুটা। ইনিংসের ১২তম ওভারের তৃতীয় বলে মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে গেলেন লঙ্কান অধিনায়ক করুনারতেœ। ২৯ বল খেলে তিনি তখন ছিলেন ১৫ রানে।
১২৯ রানের মাথায় আউট হন আভিসকা ফার্নান্দো। ৭৫ বল খেলে তিনি করেন ৮২ রান। ৯টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কা মারেন ২টি। এছাড়া কুশল পেরেরা করেন ৩৪ বলে ৩০ রান। তাকে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর অবশ্য আর লঙ্কানদের কোনো উইকেট ফেলতে পারেনি টাইগাররা।
৭৪ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন কুশল মেন্ডিস। তার সঙ্গে ৫৭ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ। এ দু’জনের ব্যাটেই চলে এলো ৭ উইকেটের কাক্সিক্ষত জয়। ২৩৯ রানের জায়গায় করলো তারা ২৪২ রান। মোস্তাফিজ ২টি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১টি উইকেট।
এর আগে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন মুশফিক। তবু আক্ষেপ থেকে গেল তার। ২ রানের জন্য যে সেঞ্চুরি হলো না! অপরাজিত ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠ ছাড়েন তিনি ৯৮ রান করে। ঝলমলে ইনিংসটি তিনি সাজান ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়। প্রচন্ড চাপের মধ্যে একপ্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশের স্কোর নিয়ে গেছেন ২৩৮-এ।
৪৩ রান করা মিরাজের (৪৩ রান) যোগ্য সঙ্গ পেয়ে মুশফিক সপ্তম উইকেটে গড়েন ৮৪ রানের জুটি। তার সঙ্গে ইনিংস শেষ করা মোস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত থাকেন ২ রানে।
খেলা শেষে লংকান দলপতি দিমুথ করুনারতেœর হাতে দু’হাজার ডলারের ম্যাচ উইনার প্রাইজমানি তুলে দেন বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সিরিজের স্পন্সর রিং আইডি’র পরিচালক, স্মার্ট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সম্মানিত চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান।
ক্যাপশন: লংকান দলপতি দিমুথ করুনারতেœর হাতে ম্যাচ উইনার প্রাইজমানি তুলে দেন বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সিরিজের স্পন্সর রিং আইডি’র পরিচালক, স্মার্ট গ্রæপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সম্মানিত চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান