বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার রোধে সরকার ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে

4

ইংরেজিতে একটা কথা আছে, Newspaper is the herald of the civilization গণমাধ্যম হচ্ছে সভ্যতার অগ্রগতির প্রমাণপত্র। একটি দেশের পশ্চাদপদতা, কুসংস্কার ও অন্ধকার থেকে সমাজকে আলোর পথে, দেশকে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিও পথে পরিচালিত করতে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের অনেক গৌরবময় ভূমিকা ও ইতিহাস থাকলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও ব্যক্তির কারণে গণমাধ্যম কলঙ্কিত হয়েছে, এখনও সেই ধারা অব্যাহত আছে। শুধু ভুল তথ্য উপস্থাপন নয়, বরং নির্জলা মিথ্যাচার ও বিতর্কিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে গণমাধ্যমজগতে যোগ হয়েছে নতুন টার্ম ‘হলুদ সাংবাদিকতা’। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো ব্যক্তি বা সমাজের চরিত্র হননে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের উপস্থাপন করে দেশ ও জাতিকে বিভ্রান্ত করে সংবাদপত্রের ঔজ্জ্বল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা সেই কলঙ্কিত হলুদ সাংবাদিকতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। স¤প্রতি বাংরাদেশ বিরোধী বেশকিছু মনগড়া, অসত্য ও উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন করে আল জাজিরা বাংলাদেশ নয় শুধু, আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় কর্তৃক ধিকৃত হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জনগণের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সুদৃঢ় নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আজ সব সংকট মোকাবেলা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে ২০তম স্থানে রয়েছে। করোনা ভাইরাসের টিকার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্রæত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের প্রশংসা না করে পারেনি। শেখ হাসিনার সরকার দেশের মানুষকে বিনামূল্যে দুই ডোজ কওে করোনা টিকা দেবে। এর আগেই এক নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ স্বপ্নের পদ্মা সেত নির্মাণ করে, যা এখন দৃশ্যমান। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি প্রকাশিত মানব উন্নয়ন সূচক প্রতিবেদন ২০২০-এ বলা হয়েছে, বিশ্বের মানব উন্নয়ন সূচকে এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ এগিয়েছে ৬০ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। পরিবেশের প্রভাবজনিত সমন্বিত মানব উন্নয়ন সূচকে আরো ৯ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ আরো দুই ধাপ এগিয়েছে। বর্তমানে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩তম। এ ছাড়া মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেড়েছে ১৪.৪ বছর। ৭০ হাজার গৃহহীনকে ঘর দেওয়া হয়েছে। আরো এক লাখ ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এই ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০২১’ নামের রিপোর্টে এই পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশের এ অদম্য অগ্রযাত্রা, উন্নয়ন সূচকে অভাবিত ঊর্ধ্বগতি দেশের ভেতরে বাইরের এক শ্রেণির মানুষের একেবারেই সহ্য হচ্ছে না। তারই প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, একটি ঈর্ষাকাতর বা ঈর্ষাপরায়ণ গোষ্ঠী আল জাজিরা নামক এ বিদেশি মিডিয়া ভাড়া করে সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচারে যুক্ত হওয়ার ঘটনায়। বরাবরই বাংলাদেশবিরোধী এই গণমাধ্যমটি সরকারবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল সা¤প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলেও অভিযোগ আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে এই সংবাদমাধ্যমটি। অভিযোগ রয়েছে, তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষে কাজ করে। সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া, উগ্র মতবাদ ও সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি আরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত, জর্দান ও মিসরে এই টিভি চ্যানেলটি নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক গণতন্ত্রে বিশ্বের অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। আর সে কারণেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই টিভি চ্যানেলটি সেই ষড়যন্ত্রকে বাস্তবায়ন করতে ষড়যন্ত্রীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। ২০১৩ সালে এ গণমাধ্যমটি হেফাজতের তা-বকে উসকে দিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার চালিয়েছিল, কয়েক দিন আগেও ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর নিয়ে তারা নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব অপপ্রচার প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কারণেই রাজনৈতিকভাবে আলজাজিরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেয় শুরু থেকেই। বাংলাদেশবিরোধী কিছু মানুষ বিদেশে বসে আমাদের গর্ব, আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি দেশের জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।