বাঁশখালী ঋষিধামে ৬৬ বছরে ২১তম কুম্ভমেলা

10

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের কুম্ভমেলার আদলে বাংলাদেশের একমাত্র ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলাটির প্রবর্তন হয় ১৯৫৭ সালে। শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ বাঁশখালীর কোকদন্ডী গ্রামের সাধনপীঠ ঋষিধামে ৬৬ বছর পূর্বে এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আগামি ২৭ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী ২১তম কুম্ভমেলা শুরু হতে যাচ্ছে। মেলায় দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধকোটি ভক্ত জনতার সমাবেশ ঘটবে।
প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বাজেটের এবারের মেলাকে ঘিরে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা উদ্যাপন পরিষদ। গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলন করে উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুকুমার চৌধুরী বলেন, এই কুম্ভমেলায় দেশ থেকে সাধক, মহাত্মা, সাধু সন্নাসী ভক্ত জনতাকে আর্শীবাদ করবেন। ১১ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘদিন ধরে কুম্ভমেলাকে সফল করতে প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য সামগ্রী নিয়ে দোকানিরা মেলাঙ্গনে চলে আসছে। পুরো ঋষিধামে এক সাজ সাজ রব। নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে ঋষিধামের বিশাল এলাকা।
তিনি বলেন, স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের আদর্শ ছিল বিশ্বজনীন, সার্বজনীন এবং অসাম্প্রদায়িক। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে তিনি সমানভাবেই দেখেছেন। তার কাছে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলেই সমান সমাদৃত ছিলেন। তিনি আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন ঋষিধাম ও নন্দনকাননস্থ তুলসীধাম। এবারের ঋষিকুম্ভ মেলাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে প্রতিবারের মতো এবারও ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
উদ্যাপন পরিষদ নিয়ে নিজেদের মধ্যে চলমান দ্ব›দ্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুকুমার চৌধুরী বলেন, ঋষিধামে কমিটি করার কারও কোনো স্বাধীনতা নেই। পুরো কমিটি গুরুমহারাজের পছন্দমতো হয়। এটা উনার নির্দেশেই চলে। আমরা সবাই সেবক। গত কুম্ভমেলায় যারা ছিল সবাই আছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কমিটির মেম্বার আছে। গুরুমহারাজ যে নির্দেশ দিবেন সেটি সবাই পালন করবেন।
মেলায় চাঁদাবাজি বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেলা নিয়ে বিশৃঙ্খলা করতে একটি মহল চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা শক্ত হাতে এটি প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। আমি আগে সভাপতি থাকতে একটি টাকাও মেলা থেকে নিই নাই। উল্টো চার লক্ষ টাকা মেলা পরিচালনা করতে দিয়েছি। গতবার বেশি বিশৃঙ্খলা হয়েছে। গুরুমহারাজ দুঃখপ্রকাশ করেছেন। এটার জন্যেই এবার একটু কঠোর হয়েছেন। মেলা থেকে গরীবরা যেন কষ্ট নিয়ে না যায়। একটি দোকানে প্রতিদিন ৭০ টাকা দামের একটি বাল্ব দিবে। সার্ভিসের জন্য একটি টোকেন মানি আশ্রমের জন্য নিবে। সেটি এক হাজার টাকার মতো হতে পারে। তাদের পরিচয় ছাড়া দোকান যেন হাতবদল না হয় সে ব্যবস্থা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুম্ভমেলা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ বরণ দাশ, নগর পূজা কমিটির সভাপতি লায়ন আশীষ ভট্টচার্য্য, জন্মাষ্ঠমী উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, লায়ন দুলাল দে, কুম্ভমেলা উদ্যাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক তড়িৎ গুহ, বাঁশখালী উপজেলা পূজা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর প্রণব কুমার দাশ, তাপস কুমার নন্দী, প্রদীপ গুহ, রাধা দেবী টুনটু মুন, নন্দিতা দাশগুপ্ত।