বাঁশখালীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জাকের ডাকাত নিহত

89

কোমড়ে একটি ও পাশে রাখা আরেকটি অস্ত্র। সবসময় দু’টির অধিক অস্ত্র নিয়েই চলাফেরা করতেন চাম্বল ছড়ারকুল এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে জাকের হোসেন প্রকাশ ডাকাত জাকের (৪০)। সাধারণ মানুষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে ওঠা একটি ডাকাত গ্রæপের নেতৃত্বে ছিলেন জাকের। চাম্বলের পাহাড়ি এলাকায় ঘাঁটি গড়ে তোলার মাধ্যমে দস্যুপনায় নিয়োজিত ছিল জাকের। প্রকাশ্যে গুলি করে আতঙ্ক ছড়িয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিতো। গত ছয়মাস ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও ডাকাত গ্রæপের চুলের লাগাম পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শেষতক গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ডাকাত জাকেরের রাজত্বের অবসান হয়েছে। ড্রোন ব্যবহার করেই তার অবস্থান সনাক্ত করে র‌্যাব। পরে অভিযানে গেলে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় দুই ডজন মামলার পলাতক আসামি জাকের। এসময় ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিও উদ্ধার করে র‌্যাব। জাকেরের মারা যাওয়ার খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
র‌্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান পূর্বদেশকে বলেন, চাম্বল এলাকায় র‌্যাবের টহল দলের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে ডাকাত জাকেরের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে আমরা ড্রোনের মাধ্যমে ডাকাতের প্রস্তুতিগ্রহণ কালে তাদের অবস্থান সনাক্ত করি। এসময় তাদের কাছ থেকে ১১টি অস্ত্র ও বিপুল সংখ্যক গুলি উদ্ধার করা হয়। ডাকাত জাকেরের লাশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, চাম্বল এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, ডাকাত ও জলদস্যু জাকেরের বিরুদ্ধে দুই ডজন মামলা আছে।
এরমধ্যে খুনসহ ডাকাতি একটি, পাঁচটি ডাকাতি, অস্ত্র মামলা দু’টি, বাকিগুলো দস্যুতা, চুরি ও মারামারির মামলা।
জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাত জাকেরের অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে সিগারেট ফুঁকতে থাকা একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জাকেরকে গ্রেপ্তারে উদ্যোগী হয়। চাম্বলের পাহাড়ি এলাকায় শক্তিশালী ডাকাত গ্রæপ গড়ে তোলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতো জাকের। এ গ্রæপে আরো কয়েকজন দুধর্ষ সন্ত্রাসী আছে। সম্প্রতি জনতা ধাওয়া দিয়ে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) কামাল উদ্দীন পূর্বদেশকে বলেন, ‘র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত জাকের নিহত হয়েছে। র‌্যাব ৯ টার দিকে অভিযান শেষ করেছে। ডাকাত জাকের মারা যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। আরো যারা এমন অপকর্মের সাথে যুক্ত আছে তারাও গাঁ ঢাকা দিয়েছে। এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে’।