বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও সংঘাত দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনা হোক

7

বাঁশখালীর গন্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও শ্রমিক-পুলিশ চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আবারও মারা গেছেন পাঁচ শ্রমিক। এতে আরো প্রায় শতাধিক শ্রমিক-পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনার কথা জানা গেলেও বাস্তবে ২১ জন পুলিশ ও শ্রমিক আহতাবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। গতকাল রবিবার দৈনিক পূর্বদেশসহ স্থানীয় ও জাতীয় সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বকেয়া বেতন পরিশোধ, রমজানে ও শুক্রবার জুমার সময়ে কর্মঘণ্টা কমানোসহ ১২ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকরা প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উপস্থাপন এবং পরে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশসহ বিক্ষোভ করতে চাইলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া মেনে নেয়ার পাশাপাশি নিহত শ্রমিকদের প্রতি পরিবারকে তিন লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনার পেছনে অতীতের মত বাইরের ইন্ধন রয়েছে, যদি তাই তদন্তে প্রমাণ মিলে তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের পাশাপাশি ইন্ধনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা জানি, ২০১৬ সালে বাঁশখালীর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জায়গা ক্রয় ও নির্মাণ শুরুর প্রাক্কালে স্থানীয়রা বাধা প্রদান করলে পুলিশ-জনতার দুটি সংঘর্ষের ঘটনায় মারা যান চারজন। ২০১৬ সালের এ ঘটনার পর স্থানীয় একটি পক্ষ প্রকল্পবিরোধী ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল স্থানীয় চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা লেয়াকত আলী। পরবর্তীতে এ প্রকল্পের কাজ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অনুসারীদের বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রমিক ও কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়।
সূত্র জানায় এ প্রকল্প থেকে সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা সুবিধা আদায় করার পরও নানা অজুহাতে প্রকল্পের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে এমন ঘটনার অবতারণা করা হচ্ছে। এতে একদিকে প্রকল্প বিরোধী জনমত সৃষ্টির পায়তারার পাশাপশি প্রকল্পকে কুক্ষিগত করার হীন চক্রান্ত রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এ অবস্থায় দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এ প্রকল্পে যেন আর কোন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে সেই দিকে মনোযোগ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসনকে। এছাড়া প্রকল্পে কর্মরত সহ¯্রাধিক শ্রমিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। প্রকল্পের সাথে চীনা কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা থাকলেও দেশের সর্ববৃহৎ শিল্প কোম্পানি এস আলম এ প্রকল্পটির মূল পরিচালনা ভূমিকায় রয়েছে। আমরা মনে করি, দেশের হাজারো শ্রমিক কর্মচারী পরিচালনার অভিজ্ঞতা এ কোম্পানির রয়েছে।
আশা করি, কোম্পানিটি তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরো আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে যাবে। এছাড়া শ্রমিকদের অসন্তোষ নিরসনে দমন-পীড়ন ও গুলি করে হতাহতের ঘটনা ঘটানোর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, এটি একমাত্র উপায়ও নয়; যারা বারবার এমন ঘটনার সৃষ্টি করছেন তাদের চিহ্নিত করতে হবে। আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, হতাহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে এ ঘটনার প্রকৃত সুরাহা হবে না, যতক্ষণ না ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার না হবে। আশা করি জেলা পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন যে তদন্ত কমিটি করেছে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শিগগিরই এর প্রতিবেদন প্রকাশ পাবে। ঘটনার বাইরে-ভিতরে যারাই জড়িত থাকুক দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।