বর্ষায় ৫০ কি.মি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত মেরামতে চায় ১০০ কোটি টাকা

22

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারী বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে নগরীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষার শুরুতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো ৩৬ দশমিক ২৭ কিলোমিটার সড়ক। সে সময় সড়ক সংস্কারে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। এক মাসের ব্যবধানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৪ কিলোমিটার সড়ক। তাই মেরামত খরচ আরও বাড়বে। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া সড়ক ‘নেটওয়ার্কিং’ উন্নত করা কঠিন বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক।
তিনি আরও জানান, বর্ষার শুরুতে আমরা মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে ৩৬ দশমিক ২৭ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা করেছিলাম। যা মেরামত করতে খরচ লাগত ৯১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে পরিমাণ বাড়ায় এখন ৫০ কিলোমিটার সড়ক মেরামতে অন্তত একশ কোটি টাকা লাগবে। সাধারণত থোক বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া অর্থ থেকে ঠিকাদারের মাধ্যমে ক্ষতি হওয়া সড়ক সংস্কার বা মেরামত করা হয়। কিন্তু বিগত সময়ে সংস্কার কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারের ২৯৯ কোটি টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। এতে নতুন করে ক্ষতি হওয়া সড়ক সংস্কারে আগ্রহী হচ্ছেন না বেশিরভাগ ঠিকাদার। তাই মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দ পেলে বিল পরিশোধের প্রতিশ্রæতিতে ঠিকাদার নিয়োগ করে সড়ক মেরামত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে বলে জানান এ প্রকৌশলী।
জানা যায়, গত বর্ষায় শহরের ১৭০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আর্থিক সঙ্কটসহ নানা কারণে গত বছর ক্ষতি হওয়া সড়কগুলোর এখনো সংস্কার কাজ শেষ করতে পারেনি চসিক। ফলে এডিপি’র অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে সড়ক মেরামতের জন্য প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সিটি করপোরেশন। এ অবস্থায় চলতি বর্ষায় নতুন করে ক্ষতি হওয়া সড়ক সংস্কার নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে সংস্থাটি।
চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষায় এ পর্যন্ত ক্ষতি হওয়া সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন। এদিকে আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেও জরুরি ভিত্তিতে প্যাচওয়ার্ক করে সড়ক সংস্কার করতে চায় চসিক। এজন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহায়তাও চেয়েছেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। গত ৩০ জুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে উপানুষ্ঠানিক পত্র দিয়ে প্রাথমিকভাবে ৫০ কোটি বরাদ্দ চেয়েছেন তিনি।