বন্ধদিনের ছন্দগাথা

9

 

খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক কবি সুজন বড়ুয়া। তিনি ছোটদের জন্য নিরন্তন লিখে চলেছেন। ছোটদের জগতকে আনন্দময় করতে নতুন নতুন ভাবনায় ডুবে থাকেন তিনি। কখনো ছড়ায় কখনো কবিতায় কখনোবা গল্পে বা প্রবন্ধে তাঁর নতুন ভাবনা গুলোর প্রকাশ ঘটান। এখন পুরো বিশ্ব মহামারি করোনাময়। সেই করোনাকে জয় করতে বিশ্ব এখন গলদঘর্ম। তার অভিজ্ঞতা আমাদের সকলের রয়েছে। কিন্তু সুজন বড়ুয়া সেই করোনাময় দিনগুলোকে কবিতার ছন্দ মাত্রা অন্তমিলে এমন সৃজন করেছেন, সেই সৃষ্টিকে অনন্য বলতেই হয়। যেমন-
যুদ্ধ যুদ্ধ কঠিন যুদ্ধ
ঘোষণা করেছে বিশ্ব
শত্রূ কিন্তু ভীষণ অচেনা
শত্রূ যে অদৃশ্য।
শত্রূ এবার ভাইরাস এক
নাম জানি তার করোনা
সেই নাকি মহা গুপ্তঘাতক
তার থেকে কেউ বড়ো না।
তাকে রুখতেই ব্যস্ত বিশ্ব
খুঁজছে নুতন বম
লকডাউন আর কোয়ারেন্টিনে
নেতারা গলদঘম।
কিন্তু করোনা গুপ্তঘাতক
হও যত প্রাণঘাতী
আমরা তোমাকে জয় করবই
আমরা গেরিলা জাতি। (গুপ্তঘাতক করোনা)
কবিতাটি সদ্য প্রকাশিত সুজন বড়ুয়ার ‘বন্ধদিনের ছন্দগাথা’বইয়ের প্রথম কবিতা।
দুই হাজার বিশ সাল। মহামারি করোনার রাজত্বকাল।এ সময় গোটা বিশ্ব ঘরবন্ধি। কেউ কারো ছায়াটাও মারাতে ভয়ে জড়োসড়ো। কোথাও যাওয়ার কোন উপায় জানা ছিল না করো। ঘর থেকে বের হলেই শোনা যেতো লকডাউন। এই বন্ধদিনের কথামালাকে পুজি করে আমাদের প্রিয় শিশুসাহিত্যিক সুজন বড়য়া, লিখেছেন,‘বন্ধদিনের ছন্দগাথা’। অসাধারণ একটি কিশোর কবিতার বই। বইটির প্রকাশক খ্যাতিমান প্রকাশনা সংস্থা, আদিগন্ত প্রকাশন। বইটিতে ২৪ টি কবিতা রয়েছে। কবিতার সাথে চমৎকার অলংকরণ করেছেন আমাদের প্রিয় শিল্পী সোহাগ পারভেজ। এতো মমতা দিয়ে আঁকা ছবিগুলো মন ছুঁয়ে যায়।
বইয়ের দ্বিতীয় কবিতাটি-
আমরা বাসায় তোমরা কোথায়
পৌঁছবে কবে ঠিক ঠিকানায়?
ওই দেখো না ভিড়টি বেয়ে
ভাইরাস এক আসছে ধেয়ে,
নাম নাকি তার করোনা
ভুলেও হেলা করো না,
বাসায় ঢোকো,বাসায় যাও
আগে নিজের জান বাঁচাও।
….-(বাসায় থাকো)
কবি কত আদর দিয়ে আমাদেরকে ঘরে থাকার জন্য বলেছেন ছন্দে ছন্দে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বার বার করে তখন হুঁশিয়ার করে যাচ্ছিল করোনা থেকে বাঁচতে হলে ঘরে থাকাটায় হচ্ছে নিরাপদ।
করোনা দিয়েছে বিশ্ব বদলে নতুন পরিস্থিতি
সারা পৃথিবীতে মানুষের মনে মৃত্যুর ভয় ভীতি।
দেশ মহাদেশ গ্রাম কি শহর থমকে গিয়েছে সবই
সবাক বিশ্ব হঠাৎ কেমন অবাক অচল ছবি।
রাতেও সরব থাকত কী এই নদী বন্দর-জেটি!
ঘুমে ঢুলুঢুলু নিঝুম গ্রামের পাড়া যেন আজ সেটি।
ঘুমায় বিমান বন্দরটাও,নেই করো আনাগোনা
সেখানে এখন আসর জমায় শালিক টুনিও টোনা।
…………………
আমেরিকা বলে আমার হাতেই করোনা রোখার চাবি
জাপান করেছে করোনার টিকা আবিস্কারের দাবি।
কিন্তু করোনা পাল্টায় তার রূপ-সাজ বার বার
তবু আশা করি মানুষের কাছে জীবানু পাবে না পার!
…-(করোনার রূপ)
করোনাকে রূখে দিতে দুইটি বড় দেশ আমেরিকা ও জাপানের টিকা আবিস্কারের কথা কবি আমাদের জানিয়ে আশ্বস্ত করেছেন বটে আবার শঙ্কার কথাও বলেছেন, করোনা তার রূপ বার বার পাল্টায়। কিন্তু যতই রূপ বদলাক করোনা মানুষের কাছে হার মানতেই হবে কবির এই সাহসি উচ্চারণ আজ সত্যি হতে যাচ্ছে। মানুষ টিকা আবিস্কার করেছে সফল ভাবে এবং তা মানব দেহে প্রয়োগ করে করোনাকে বৃদ্ধাআঙগুলি দেখিয়ে যাচ্ছে।
বইয়ের কবিতাগুলো যখনই পড়া হবে করোনার ভয়াবহতার কথা পৃথিবীর মানুষ জানতে পারবে। কবিতাগুলো সবই লেখা হয়েছে করোনার শুরু ২০২০ সালের সেই মার্চ- এপ্রিল থেকে পুরো বছর সময়। করোনার ইতিহাসে বইটি একটি দলিল হয়ে থাকবে।
২৪ টি কবিতার প্রতিটি কবিতায় ছন্দ মাত্রায় অন্তমিলে এতো প্রজ্জল ভাষা শৈলী পাঠককে বইটির দিকে টানবেই।
বইটি মূল্য রাখা হয়েছে মাত্র দুইশত পঞ্চাশ টাকা। বইটির বহুল প্রচার কামনা করি।