বন্দরের নিরাপত্তা, জাহাজ ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক সিস্টেমে তারা খুশি

8

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জাহাজ ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক সিস্টেম সবকিছুর উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি দল। আন্তর্জাতিক বন্দর নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদল তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল সফরে এসে বন্দর পরিদর্শন করেছে। ওইদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বন্দরের ভেতরে বিভিন্ন স্থাপনা এবং একটি জাহাজ পরিদর্শন করেন দলের সদস্যরা। প্রথম দিন তারা বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এনসিটি ও সিসিটি এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন।
এরপর দ্বিতীয় দিন গতকাল বুধবার কোস্টগার্ডের সদস্যরা ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ কয়েকটি কন্টেইনার ডিপো এবং বন্দর সংশ্লিষ্ট স্থাপনা পরিদর্শন করেন। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান জানান, ‘আইএসপিএস কোডের’ (জাহাজ ও বন্দর ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা ঝুঁকি) আওতায় বিভিন্ন নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, প্রতিনিধি দল তা দেখতে বাংলাদেশে সফরে এসেছে। প্রতিনিধিদল বন্দর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে। এসময় তারা বন্দরের বিভিন্ন অগ্রগতি দেখে সন্তুষ্টির কথা জানান। আর বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জাহাজ ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক সিস্টেম সবকিছুর উন্নতি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এছাড়া আগামী আগস্টে চূড়ান্ত পরিদর্শনে আসবে সংস্থাটি। সেই পরিদর্শনে বড় ধরনের কোনো ঘাটতি শনাক্ত হলে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাবে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডের এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২০১৭ সালে বন্দর পরিদর্শন করে মার্কিন প্রতিনিধিদলটি ১৬ দফা পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। সেই ১৬ দফা পর্যবেক্ষণের বাস্তবায়ন অগ্রগতি দেখতে ২০১৯ সালে পরিদর্শনে আসেন তারা। তখন বন্দরের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিনিধিদলটি। এরপরও সাইবার নিরাপত্তায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানায়। আবার পণ্য খালাস নিতে আসা গাড়ির চালক ও সহকারীদের দীর্ঘ সময় বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থানকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন তারা। করোনার কারণে দুই বছর বন্দর পরিদর্শন করেনি প্রতিনিধিদলটি। তাই এবারের পরিদর্শনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সবক’টি বিষয় যাচাই করার কথা রয়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মানুষ ও যানবাহন আসা-যাওয়ার ফটকে উন্নতমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু, রপ্তানি পণ্যের স্ক্যানিং কার্যক্রম, বন্দর এলাকায় সিসিটিভির আওতা বাড়ানো, সীমানা দেয়াল তদারকিতে ক্যামেরা বসানো, জেটি এলাকা থেকে পণ্য খালাস সরিয়ে নেওয়া, সন্দেহভাজন গাড়ি দৈবচয়ন ভিত্তিতে যাচাইয়ের মতো অনেকগুলো বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তুলে ধরেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড। এর মধ্যে অনেকগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। রপ্তানি পণ্য স্ক্যানিংয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র পণ্য আমদানি করে, সেসব দেশে ‘আন্তর্জাতিক বন্দর নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বন্দর ও অন্যান্য স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত আইএসপিএস কোড (জাহাজ ও বন্দর স্থাপনার নিরাপত্তা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম) বাস্তবায়নকে প্রাধান্য দেন তারা। সমুদ্রে নাবিকদের জীবনের নিরাপত্তা বিষয়ক কনভেশন সেফটি অব লাইফ অ্যাট সি বা সোলাসের আওতায় আইএসপিএস কোড রয়েছে। বাংলাদেশেও ২০০৪ সালের ১ জুলাই থেকে এই কোড বাস্তবায়ন শুরু হয়।