বউয়ের জ্বালায় সন্তানদের নিয়ে বিষপান করলো আবদুল আজিজ

44

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি

সাগর থেকে মাছ ধরে ১০ দিন পর ঘরে এসে জেলে আবদুল আজিজ (৩২) দেখেন তার স্ত্রী ঘরে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন স্ত্রী শ্বশুর বাড়িতে। গত রবিবার স্ত্রীকে ঘরে আনার জন্য শ্বশুর বাড়িতে গেলে স্ত্রী ও শাশুড়ি গালিগালাজ করে ছেলে ও কন্যাসহ স্বামী আবদুল আজিজকে তাড়িয়ে দেন। রাত ১২ টায় সন্তানদের নিয়ে নিজ ঘরে ফিরেন আজিজ। পরদিন সোমবার সকালে বাড়ির পাশে কীটনাশকের দোকান থেকে বিষ এনে বাড়িতে বসে প্রথমে বিষ পান করেন আজিজ। এর পরপরই ছেলে তামিল ইকবাল বাবু (৮) ও মেয়ে আফিফা ছিদ্দিকী মইমুনাকে (৩) বিষ খাইয়ে দেন। পাশ্ববর্তী লোকজন বিষের গন্ধ পেয়ে ঘরে ঢুকে তিনজনের মুখেই বিষের গন্ধ পান। এসময় দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দুই সন্তান সুস্থ থাকলেও আবদুল আজিজের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান কুতুবদিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক জয়নব বেগম।
কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে আবদুল আজিজ।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১০ দিন আগে জেলে শ্রমিক নিয়োগ হয়ে আবদুল আজিজ সাগরে চলে যান। ১০ দিন পর রবিবার রাতে মাছ ধরে সাগর থেকে জেলে আবদুল আজিজ ঘরে এসে দেখেন তালা দেয়া। খবর নিয়ে জানতে পারেন তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম একই এলাকার তেলিপাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে আছেন। স্ত্রী সন্তানের মায়ায় আবদুল আজিজ রাতে তাদের আনার জন্য শ্বশুর বাড়িতে যান। কিন্তু স্ত্রী ও শ্বাশুড়ি মিলে তাকে অপমান করে দুই সন্তানসহ তাড়িয়ে দেয়। স্ত্রী ও শাশুড়ির অপমান সহ্য করতে না পেরে আবদুল আজিজ নিজে ও তার দুই সন্তানকে বিষপান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।