বই পড়া এবং…

18

 

ইদানীং শিল্পের কাছে নিজেকে বিনম্র দোষী মনে হয়। ভিতু চোখের মাইক্রোস্কোপে যখন দেখি যে, ভাঙচুর চিন্তায় শিল্পের দেয়াল খসে পড়ছে এক এক করে তখন নিজের ভেতর শরশয্যা অনুভব করি।আমরা মোলায়েম মাংসে জন্মোৎসব রাখি,,বিদেশি শ্যাম্পেনে খুশির উদ্বোধন করি,কিন্তুু একটা কবিতা পাঠ দিয়ে আসরের শুরু হয় এমনটা খুব কমই চোখে পড়ে। ফুল তো ফুটবেই যেহেতু স্বভাবতই তার সৌরভ। দ্বিধা হয় যে সময়ঘোড়ায় ফুলের সৌরভের ঘ্রাণ কে কখন পাচ্ছে? যারা আগে পাচ্ছে তারাই মহারণে শিল্পজাতির গৌরবে নিজেদের ফুটিয়ে তুলতে পারছেন।আর যারা শেষেও পারছেন না তারা শুধু ব্যাকরণ বদল করে যাচ্ছে। একারণেই মনে হয় বাঙালিরা হৃদয়ে ক্লান্ত। কেননা, রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনার মতো তাদের হাতে সময় কই? সময় তো বুকিং করে রেখেছে বিদেশি গানে। আমি বিদেশি গান খারাপ বলছি না। কিন্তুু আগে তো ঘরে বাতি দিতে হবে তারপর তেল থাকলে বাইরে জ্বালাও। আমরা বাঙালিরা বরাবরই এক্ষেত্রে উল্টোটা করি। বই কেনার সামান্য টাকা টা নেই কিন্তুু প্রচুর এমবি লোড করে অপসংস্কৃতিতে ডুবি। খারাপ লাগে সত্যি! যেখানে ইউরোপের দেশগুলো বেশিরভাগ সাহিত্যনির্ভর, তারা শুধু পড়তে চায়, জানতে চায়, শিখতে চায়। তখন আমরা বাঙালিরা মায়ের পেট থেকে পড়ামাত্রই সব জেনে বুঝে বসে আছি। তবে আমাদের জানাটা ঠিক কোথায় গিয়ে পড়েছে তাই দেখার বিষয়। ‘বাঙালি বিভিন্ন নির্যাতনে প্রথম স্থান দখল করে আছে’ এই হলো আমাদের শেখার পরিধি। বাঙালি এত বেশি অপসংস্কৃতিতে ডুবে যে তাদের কাছে অনৈতিক কর্মই প্রধান—গান নয়। প্রথম শ্রেণির জনৈক ব্যক্তি বলছেন যে, বই কিনে কি হবে? এখনও তো বুড়ো হইনি যে বই নিয়ে বসে থাকব। (বাকিটা ইতিহাস) নিজেদের সবুজ প্রমাণ করার জন্য আমরা বই পড়ি না। বরং বই পড়াটাকেই আমরা বার্ধক্যের সাথে তুলনা করি। তাই আজও অবধি বাঙালির জ্ঞানের ভাঁড় ভবানী। যারা বই পড়েনা তারাই প্রথম শ্রেণির নাগরিক এখন। যারা পড়ে তারা বোধকরি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়বে। তাইতো পাসের হার বাড়ে,এ প্লাসও বাড়ে কিন্তুু মান বাড়ে না।