ফ্রান্সকে হারিয়েও তিউনিসিয়ার বিদায়

7

পূর্বদেশ ক্রীড়া ডেস্ক

ভাগ্য নিজেদের হাতে ছিল না। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জিতলেও শেষ ষোলোর নিশ্চয়তা ছিল না। এই ম্যাচের শেষ পর্যায়েই খবর আসে, ডেনমার্ককে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে কাতার আসর থেকে ফেরার আগে দারুণ এক অর্জন সঙ্গে নিয়ে গেল তিউনিসিয়া। বিশ্বকাপে থামাল ফ্রান্সের জয়রথ। আল রাইয়ানের এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে গতকাল ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছে তিউনিসিয়া। দলটির পক্ষে গোল করেছেন অধিনায়ক ওয়াহবি খাজরি।
এমবাপে, জিরু, গ্রিজম্যানসহ নিয়মিত ৮ জনকে বাইরে রেখে একাদশ সাজিয়েছিলেন সর্বশেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন কোচ। বেঞ্চের খেলোয়াড়দের পরখ করে নেওয়ার জন্যই তিনি এই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে আফ্রিকার দেশটির বাজিমাত করে ছেড়েছে।
তিউনিসিয়ার প্রথম শর্ত ছিল জিততে হবে। ভাগ্যের বাকিটা নির্ভর করছিল গ্রুপের অন্য ম্যাচের ওপর। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া জিতে যাওয়ায় শেষ ষোলতে ওঠার সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় তিউনিসিয়ার। চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েও তিউনিসিয়ার খেলোয়াড়দের চোখে পানি।
কারণ, জয়েও তাদের ওঠা হলো না পরের রাউন্ডে। তবে সান্তনা একটাই তারা বিদায়ী ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছে সর্বশেষ আসরের চ্যাম্পিয়নদের। তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করলো তিউনিসিয়া।
শেষ ষোলতে উঠতে হলে জয়ের বিকল্প নেই-যে কারণে দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে তিউনিসিয়া। সফল হয় আফ্রিকার দেশটি। ৫৮ মিনিটে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের দুর্বলতায় এগিয়ে যায় তিউনিসিয়া। একজন ডিফেন্ডারের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে জালে জড়িয়ে নে ওয়াহবি খাজরি।
পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স কোচ ৬৩ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপেসহ ৩ জন খেলোয়াড়কে মাঠে নামান। ৭৩ মিনিটে আক্রমণের শক্তি আরো বাড়াতে মাঠে নামান গ্রিজম্যানকে। তারকারা মাঠে নামার পর আক্রমণের ধার বেড়ে যায় চ্যাম্পিয়নদের।
৮২ মিনিটে ডেম্বেলের শট তিউিনিসিয়ার গোলরক্ষক ধরলে এবং ৮৫ মিনিটে ডেম্বেলের ক্রসে এমবাপের শট বাইরে গেলে ম্যাচে ফেরা হয়নি ফ্রান্সের। এমবাপের আরেকটি শট তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক রুখে দেন ৮৮ মিনিটে।
৯০ মিনিটে কোলো মুয়ানুর শট চলে যায় পোস্ট ঘেঁষে বাইরে। ইনজুরি সময়ে একের পর এক আক্রমণ করে ফ্রান্স। ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে গ্রিজম্যান গোল করেছিলেন। কিন্তু ভিএআর এ অফসাইড চেক করে গোলটি বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় সারির দল নামানোর খেসারত হিসেবে ম্যাচটি হারতে হলো ফ্রান্সকে।
এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। তবে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলে একটিও শট নিতে পারেনি ফরাসিরা। উল্টো ফরাসিদের গোলপোস্টেই দুইটি শট নিয়েছিলো তিউনিসিয়া, তবে গোল করতে ব্যর্থ হয় তারা। শেষমেশ কোন দলই গোল করতে না পারলে গোলশূন্য সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দুদল।
তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে পূর্ণ পয়েন্ট আদায় করে নিয়েও বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে তিউনিসিয়া। কারণ এই গ্রæপে প্রথম দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের সঙ্গে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।